পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছে, তার পরিধি কেবল দুই দেশের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নয়। আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে তেহরান স্ট্রেইট অব হরমুজ পুনরায় খুলে দেয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন যে, এই চুক্তি লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য উত্তপ্ত অঞ্চলেও কার্যকর হবে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শাহবাজ শরিফ এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘উভয় দেশ যে বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা প্রদর্শন করেছে, আমি তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। এই উচ্চপর্যায়ের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষই অত্যন্ত গঠনমূলকভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করেছে।’
শাহবাজ শরিফ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী শুক্রবার ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে সব বিরোধের একটি চূড়ান্ত এবং মীমাংসিত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা শুরু হবে।
এদিকে তেহরান সমঝোতায় না এলে এক রাতেই ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংস করার হুমকি দেবার পর পরিকল্পিত হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে রাজি হলেন তিনি।
ইরানকে বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।
এই সমঝোতায় মধ্যস্থতার জন্য পাকিস্তানকে কৃতিত্ব দিলেও তিনি সতর্ক করে বলেন, এই যুদ্ধবিরতির জন্য শর্ত প্রযোজ্য, বিশেষ করে ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে হবে।
ট্রাম্প লিখেছেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনায় তারা যেহেতু আজ রাতে ইরানের ওপর ধ্বংসাত্মক হামলা না করার অনুরোধ জানালেন এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান যেহেতু হরমুজ প্রণালিকে অবিলম্বে সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে খুলতে সম্মত হওয়ার শর্তে সম্মত হয়েছে, আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছি।
ট্রাম্পের বার্তার কিছুক্ষণ পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে।
তিনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ হলে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান বন্ধ করবে।”
আরাগচি আরও বলেন, “ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত সম্ভব হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের হামলা স্থগিতের আহ্বান জানাতে শেষ মুহূর্তে ভূমিকা রাখায় পাকিস্তানকেও ধন্যবাদ জানান আরাগচি।
অন্যদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল পৃথক বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছে, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলে এই যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোও হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









