পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার সিংহাসনে কি টানা চতুর্থবারের মতো বসবেন ‘দিদি’, নাকি পরিবর্তনের ঝড়ে বাজিমাত করবেন ‘মোদি’—আগামীকাল সোমবার দুপুরের মধ্যেই মিলবে সেই বহুপ্রতিক্ষিত জবাব।
সকল উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হচ্ছে ভোট গণনা। প্রথমে গোনা হবে পোস্টাল ব্যালট। তারপর খোলা হবে ইভিএম।
সোমবার (৪ মে) পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা আসনের (বা বিধানসভা প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক লড়াইয়ের) ভাগ্য নির্ধারণ হতে চলেছে। ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে শুরু হবে ইভিএম খোলা।
একদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার দলের এজেন্টদের ‘ভোট লুট’ রুখতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব ‘পরিবর্তনের হাওয়া’র আশায় কর্মীদের মন্দিরে প্রার্থনা ও গণনাকেন্দ্রে সতর্ক থাকার ডাক দিয়েছে।
বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপির পাল্লা কিছুটা ভারী মনে হলেও, সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের ‘মমতা-ফ্যাক্টর’ শেষ মুহূর্তে পাশা উল্টে দেয় কি না, তা নিয়েই এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
গণনাকেন্দ্রে থাকা দলীয় এজেন্ট ও কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া ছাড়াও গণনাকেন্দ্রের বাইরের তৎপরতা কেমন হবে, তা জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে টেনে দেওয়া গণ্ডির বাইরে থাকতে বলা হয়েছে পাঁচ হাজার দলীয় কর্মীকে। এই কর্মীদের মধ্যে থাকবেন দলের ছাত্র, যুব, মহিলা ও ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা।
গণনাকেন্দ্রের কাছের সব পার্টি অফিস সকাল থেকেই খুলে রাখতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, সকাল থেকেই যেন পার্টি অফিসগুলো গমগম করে। রবার সকাল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস লাগাতার খোলা থাকবে। কোথাও কোনো গড়বড় দেখলেই তা সেই অফিসে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তৎপরতা বিজেপিতেও। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ অনুভব করে কর্মীদের ‘সব রকমভাবে’ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তৃণমূলের চেয়ে বিজেপির তৎপরতা যদিও কিছুটা কম; তারা জানে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করার দায়িত্ব নিয়েছে। গণনা–সম্পর্কিত কারচুপির শঙ্কাও তাদের কম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক রাজ্য নেতা বলেন, ‘এতকাল রাজ্যে যেভাবে ভোট হয়েছে, সবাই বলছে, এবারের ভোট তা থেকে আলাদা। এই প্রথম নির্বাচন কমিশন নির্বিঘ্নে ভোটদান নিশ্চিত করতে পেরেছে। গণনায় তার প্রতিফলন ঘটবে। মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে নিশ্চিন্তে রায় দিতে পেরেছে।’ ওই নেতা বলেন, ‘দলীয় কর্মীদের বলা হয়েছে, তারা যেন রবিবার সারাটা দিন পরিবর্তন কামনা করে মন্দিরে মন্দিরে প্রার্থনা করেন।’
চার দিন ধরে রাজ্য তো বটেই, দেশেরও সর্বত্র একটাই জল্পনা, শেষ পর্যন্ত বাজি কে মারবেন। নরেন্দ্র মোদি, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দোলাচলের আসল কথাটা পরিচিত সমীক্ষক যশোবন্ত দেশমুখ কবুল করেছেন। ‘সি ভোটার’–এর কর্ণধার বলেছেন, ‘একদিকে দেখছি সরকারবিরোধী মনোভাবের প্রাবল্য, অন্যদিকে দেখছি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল জনপ্রিয়তা।
যে রাজ্যে মোট ভোটারের এক–তৃতীয়াংশ সংখ্যালঘু মুসলমান, যারা এখনো বিজেপির প্রতিস্পর্ধী হিসেবে দিদিকেই আঁকড়ে রয়েছেন, তাদের সঙ্গে নারীদের সমর্থন অটুট থাকলে পরিবর্তনের হাওয়া কি ওলট–পালট করে দিতে পারবে? এ ধাঁধার উত্তর মিলবে আগামীকাল দ্বিপ্রহরেই। ততক্ষণ টান টান উত্তেজনাতেই কাটাতে হবে সবাইকে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









