রাজধানীর তেজগাঁও থানার বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেড় মাস বয়সী কন্যাসন্তানসহ কারাগারে পাঠানো সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে চার ঘণ্টা পর জামিন দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৮টায় শুনানি শেষে মানবিক বিবেচনায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ৫ হাজার টাকার মুচলেকায় পুলিশ প্রতিবেদন আসার আগ পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন নামঞ্জুর করে দেড় মাসের সন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানসহ শিল্পীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন।
এ দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তার আবেদনে বলা হয়, আসামির মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন।
তবে শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তার ১ মাস ১৬ দিনের কন্যাসন্তান রয়েছে। তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। যেকোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করছি। শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
আরও পড়ুন: দেড় মাসের সন্তান নিয়ে কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী
এদিন দুপুর ২টার দিকে আসামিকে এজলাসে তোলা হয়। শিল্পীর স্বামী, বোন, ননদ, খালাসহ স্বজনরা আদালতে হাজির হন। তারা বলছিলেন, গত মাসের ৪ মার্চ আদ-দ্বীন হাসপাতালে সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেয় শিশু; মাতৃদুগ্ধ পান করে। বাথরুমে পড়ে বাম হাত ভেঙে গেছে শিল্পীর। বাচ্চাকে ঠিকমত কোলেও নিতে পারে না, একা সামলাতে পারেন না। জামিন নাকচের আদেশ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী। শিল্পী অসুস্থ থাকায় আদালতপাড়ায় স্বজনরাই বাচ্চাকে কোলে করে রাখেন।
শিল্পী বলেন, ‘সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমত খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে। আমার বাচ্চা মরে যাবে। আমার হাতে সমস্যা, বাচ্চা পালতে পারি না। ওকে আমি আমার সাথে নেব না।’
শিল্পী কাঁদতে কাঁদতে আরও বলেন, ‘রাজনীতির কারণে আমার এ অবস্থা, রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে।’
শিল্পীর স্বামী রহিম হোসেন সোহাগ বলেন, ‘তিন ছেলের পর আমার এ মেয়েটার জন্ম। তাকেসহ আমার স্ত্রীকে কারাগারে যেতে হচ্ছে।’
মামলার সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তার সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী তাদের আক্রমণ করেন।
পরবর্তীতে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মামলার এজাহারনামীয় আসামিরাসহ আরো অজ্ঞাতপরিচয় ১২০-১৩০ জন আসামি দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং পিস্তল, বোমা নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালান। এতে আসবাব ও ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্র ভাঙচুর করে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। তিন লাখ টাকা মূল্যের বাসার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান। ভুক্তভোগীর বাসার সামনে রাস্তার ওপর বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আসামি শিল্পী ও অন্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে ওই শিক্ষার্থীর পিতা মো. সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









