শিশু নিখোঁজ হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম এক ঘণ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। এ সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে আশপাশে খোঁজ শুরু করা উচিত।
প্রথমে শিশুকে সর্বশেষ কোথায় ও কার সঙ্গে দেখা গেছে, তা নিশ্চিত করে বাড়ি, সিঁড়ি, ছাদ, গলি, দোকান, খেলার জায়গা, পার্ক, বাসস্ট্যান্ডসহ আশপাশের সম্ভাব্য স্থানে খুঁজতে হবে। পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন জায়গায় ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে।
শিশু নিজে থেকে ফিরে আসবে—এমন আশায় অপেক্ষা না করে দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে হবে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এও জানানো যায়। শিশুর সাম্প্রতিক ছবি, নাম, বয়স, উচ্চতা, গায়ের রং, পরনের পোশাক, জুতা ও বিশেষ কোনো শারীরিক চিহ্নের তথ্য পুলিশকে দিতে হবে। পাশাপাশি নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি করা যেতে পারে।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় ও বিশ্বস্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে শিশুর ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রচার করা যেতে পারে। তবে পূর্ণ ঠিকানা বা জন্মনিবন্ধন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করাই ভালো। নিকটবর্তী হাসপাতাল, ক্লিনিক, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটেও খোঁজ নেওয়া উচিত।
শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ‘মুন অ্যালার্ট’ সেবারও সহায়তা নেওয়া যায়। সিআইডির টোল ফ্রি হটলাইন ১৩২১৯ নম্বরে জানানো এবং ‘মুন অ্যালার্ট’ ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরেও তথ্য দেওয়া যায়।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮ জনের সন্ধান এখনো মেলেনি। তবে নিখোঁজ মানেই অপহরণ বা পাচার নয়; পথ হারানোসহ বিভিন্ন কারণেও শিশু নিখোঁজ হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









