দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স: যেখানে হারিয়ে যাওয়া সময় কাচের বাক্সে বসে থাকে
ইস্তাম্বুলের চুকুরজুমায় একটি ছোট বাড়ি আছে। বাড়িটি এত ছোট যে কোনো সাম্রাজ্যের মানচিত্রে তাকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা প্রায় হাস্যকর। অথচ মানুষের স্মৃতির মানচিত্রে বাড়িটির আয়তন অটোমান সাম্রাজ্যের চেয়েও বড় হতে পারে। কারণ সাম্রাজ্য ভেঙে যায়, রাজারা মরে যান, পতাকা বদলে যায়; কিন্তু একটি পুরোনো লবণের পাত্র, একটি সিনেমার টিকিট কিংবা কারও ঠোঁট ছোঁয়া সিগারেটের অবশিষ্টাংশ—এগুলো কখনো কখনো আমাদের কাছে এমন এক অতীতের দরজা খুলে দেয়, যার কোনো নথিবদ্ধ ইতিহাস নেই।
সেই বাড়িটির নাম মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স।

এখানে ইতিহাস নেই—অন্তত সেই অর্থে নেই, যেভাবে ইতিহাসের বইয়ে ইতিহাস লিখে রাখা হয়। এখানে নেই যুদ্ধের মানচিত্র, রাজাদের প্রতিকৃতি, বিজয়ীর তলোয়ার কিংবা পরাজিতের রক্তমাখা পতাকা। এখানে আছে প্রেমে পড়া মানুষের ফেলে যাওয়া জিনিস। আর সেই কারণেই হয়তো এই জাদুঘরটি এত অদ্ভুত।
ওরহান পামুক ২০০৮ সালে ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ উপন্যাস প্রকাশ করার চার বছর পর, ২০১২ সালে এই জাদুঘর খুলেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, জাদুঘরটি উপন্যাসের পর জন্ম নেয়নি। বরং বলা যায়, উপন্যাসটি জাদুঘরের গর্ভ থেকেই জন্মেছিল।
যে পাঠক ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’র একটি কপি হাতে নেন, তিনি তার ভেতরে একটি টিকিট পান। বইটি আপনাকে কেবল একটি গল্প পড়তে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে না; সে আপনাকে একটি জায়গায় যাওয়ার নিমন্ত্রণও দিচ্ছে। যেন উপন্যাসের পাতা হঠাৎ দরজায় পরিণত হয়েছে।
এখানে সাহিত্য আর জাদুঘরের মাঝখানে যে দেয়ালটি সাধারণত থাকে, পামুক সেটি ভেঙে দিয়েছেন। কিন্তু দেয়াল ভাঙার পর প্রশ্নটি আরও কঠিন হয়েছে-একটি গল্পের স্মৃতি কি সত্যিই একটি বস্তুর মধ্যে বাস করতে পারে?
সাধারণত আমরা জানি, একজন লেখক প্রথমে গল্প লেখেন। তারপর কোনো পাঠক গল্পটি ভালোবাসলে সেটিকে চলচ্চিত্র বানানো হয়, নাটক হয়, কখনো জাদুঘরও হয়। পামুকের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি যেন উল্টো। তিনি প্রথমে রসদ সংগ্রহ করেছিলেন। তারপর সেই জিনিসগুলোর চারপাশে একটি পৃথিবী তৈরি করেছিলেন। তারপর সেই পৃথিবীর মধ্যে একজন মানুষকে বসিয়েছিলেন। তার নাম কেমাল। আর কেমাল প্রেমে পড়েছিল ফুসুনের। এখানেই হয়তো সাহিত্যিক বিপদটি শুরু। কারণ প্রেমের গল্প সাধারণত মানুষকে নিয়ে লেখা হয়। পামুক লিখলেন মানুষটির চারপাশে থাকা জিনিস নিয়ে।
একটি কানের দুল। একটি চামচ। একটি লবণের পাত্র। একটি পুরোনো ঘড়ি। একটি পোশাক। একটি সিনেমার টিকিট।
একটি সিগারেট। অর্থাৎ প্রেমিকাকে হারানোর পর কেমাল যেন প্রেমিকার বদলে তার ছায়াগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করল।
কিন্তু ছায়ার সমস্যা হলো—ছায়াকে আলিঙ্গন করা যায় না। তাই কেমাল জিনিসগুলো সংগ্রহ করতে থাকে।
এখানে আমরা একটু থামাবো।
কারণ মানুষকে স্মরণ করার জন্য আমরা সাধারণত তার ছবি রাখি। চিঠি রাখি। হয়তো তার লেখা কোনো বই। কিন্তু কেন আমরা তার ব্যবহৃত কাপড়, চিরুনি, কলম, কাপ, ছাতা কিংবা সিগারেটের বাক্সও রেখে দিই?
এর উত্তর হয়তো খুব সহজ। মানুষ মিথ্যা বলতে পারে। স্মৃতি মিথ্যা বলতে পারে। কিন্তু একটি জিনিস—অন্তত জিনিসটি যতক্ষণ পর্যন্ত হাতে থাকে—চুপ করে থাকে। সে কোনো ব্যাখ্যা দেয় না। সে শুধু বলে- আমি সেখানে ছিলাম।
একটি পুরোনো সিনেমার টিকিটের কথাই ধরুন। এই মুহূর্তে তার দাম নেই। কাগজটি হলদে হয়ে গেছে। সিনেমাটিও হয়তো বহু আগেই বিস্মৃত। যে মানুষটির হাত ধরে সিনেমাটি দেখতে গিয়েছিলেন, তার সঙ্গে হয়তো এখন আর কোনো সম্পর্ক নেই। তবু একদিন বহু বছর পর সেই টিকিটটি যদি পুরোনো একটি কোটের পকেট থেকে বেরিয়ে আসে, তখন কী ঘটে?
সিনেমাটি ফিরে আসে না। মানুষটিও ফিরে আসে না। কিন্তু সেই সময়টি ফিরে আসে। এইখানেই পামুকের জাদুঘরের আসল রহস্যের চাবি।
কেমালের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল সে সুখকে সুখী হওয়ার সময় চিনতে পারেনি। সুখ যখন তার জীবনে বর্তমান, তখন সে তাকে সাধারণ দিন বলে মনে করেছে। যখন সেই দিন চলে যায়, তখন বুঝতে পারে—সেটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে মধুর মুহূর্ত।
এখানে পামুকের গল্প আমাদের নিজেদের জীবনের দিকে তাক করিয়ে দেয়। আমরা কি জানি কখন আমরা সুখী? সম্ভবত না।
আমরা সুখের মধ্যে বাস করি এবং তার ছবি তুলি না। আমরা বন্ধুর সঙ্গে বসে থাকা বিকেলটির কথা লিখে রাখি না। মায়ের রান্নার গন্ধের কোনো ক্যাটালগ বানাই না। প্রেমিকার সঙ্গে বৃষ্টিতে ভেজার জন্য কোনো নথি তৈরি করি না।
তারপর একদিন সব শেষ হয়ে যায়। আর তখন আমরা খুঁজতে থাকি—কোথায় গেল সেই দিন? কেমাল অন্তত একটি উপায় খুঁজে পেয়েছিল। সে জিনিস জমিয়েছিল। কারণ জিনিসের মধ্যে সময়ের একটি অদ্ভুত অভ্যাস আছে: মানুষকে ছেড়ে গেলেও সময় কখনো কখনো বস্তুতে আটকে থাকে। পামুক এই কাজটিকেই বলেছেন—সময়ের স্থান হয়ে ওঠা।
জাদুঘরের সবচেয়ে বড় সুখ হয়তো এখানেই: সেখানে আমরা সময়কে দেখতে পাই, যদিও সময়ের নিজস্ব কোনো শরীর নেই।
জাদুঘরের সবচেয়ে অদ্ভুত প্রদর্শনীগুলোর একটি হলো ফুসুনের ধূমপান করা ৪,২১৩টি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ। চার হাজার দুইশ তেরো। সংখ্যাটি এত বড় যে একবার উচ্চারণ করলেই মানুষের মনে সন্দেহ জাগে—একজন মানুষ কি সত্যিই এতগুলো সিগারেট গুনে রাখতে পারে? কেমাল পেরেছিল।
প্রতিটি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ সাজানো হয়েছে। বছর অনুযায়ী। তারিখ অনুযায়ী। প্রতিটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কেমালের কোনো স্মৃতি। এখানে সিগারেট আর সিগারেট নেই। এগুলো সময়ের ক্ষুদ্র কঙ্কাল।
একটি জ্বলেছিল কোনো এক সন্ধ্যায়। আরেকটি হয়তো কোনো কথোপকথনের সময়। আরেকটি এমন একটি দিনে, যার কথা ফুসুন ভুলে গিয়েছিল, কিন্তু কেমাল ভুলতে পারেনি। এখন কাচের বাক্সের ভেতরে তারা পাশাপাশি শুয়ে আছে। যেন একটি মৃত প্রেমের কবরস্থানে ৪,২১৩টি ছোট সমাধিফলক।
কিন্তু কবরস্থানের সঙ্গে এর পার্থক্য আছে। কবরস্থান মৃতদের রাখে। এই জাদুঘর রাখে মৃতদের সঙ্গে যুক্ত জিনিস।
একজন তুরস্ক-বিশেষজ্ঞ তরুণ গবেষক এই জাদুঘর দেখে মন্তব্য করেছিলেন- ‘এটি যেন একটু বেশি নিখুঁত।’
অস্বীকার করা কঠিন। সবকিছু সাজানো। সবকিছু পরিকল্পিত। পুরোনো জিনিসের রং, কাচের বাক্স, দেয়ালের সংখ্যা, আলো—সবকিছু এমনভাবে রাখা যেন আমরা এমন একটি অতীতের কথা মনে করি, যা আসলে আমাদের কখনো ছিল না।

এখানে একটি অদ্ভুত কৌশল কাজ করে। জাদুঘর আমাদের এমন কিছুর জন্য নস্টালজিক করে তোলে, যা আমাদের নিজেদের অতীত নয়। এ যেন এমন একটি শৈশবের স্মৃতি, যে শৈশবে আমরা কখনো জন্মাইনি। এখানেই পামুকের শিল্পের সৌন্দর্য এবং তার বিপদ—দুটিই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। কারণ খুব বেশি সুন্দর করে সাজানো স্মৃতি কখনো কখনো সত্যিকারের স্মৃতির চেয়ে বেশি কৃত্রিম মনে হতে পারে।
পামুকের নিজের জীবনও যেন একটি ঘড়ির দুই মুখের মতো। একদিকে ইস্তাম্বুল। অন্যদিকে নিউইয়র্ক। একদিকে পূর্ব।
অন্যদিকে পশ্চিম। জাদুঘরে কেমালের একটি অটোমান পকেটঘড়ি আছে, যার দুটি মুখ। একটি তুরস্কের সময় দেখায়, অন্যটি ইউরোপের। ঘড়িটির নাম—‘দ্য ইস্ট-ওয়েস্ট ওয়াচ’।
এটি কি কেবল একটি পুরোনো ঘড়ি? নাকি পামুক নিজেকেই সেখানে রেখে দিয়েছেন? একজন তুর্কি লেখক, যিনি একই সঙ্গে পূর্ব ও পশ্চিমের পাঠকের সাথে কথা বলেন; যিনি ইস্তাম্বুলে দাঁড়িয়ে নিউইয়র্কের দিকে তাকান, আবার নিউইয়র্কে থেকেও ইস্তাম্বুলের পুরোনো বাড়িগুলোর কথা ভাবেন।
সম্ভবত ঘড়িটি তাই শুধু সময় দেখায় না। এটি একটি পরিচয়ের দ্বন্দ্বও দেখায়।
রাষ্ট্রীয় জাদুঘর সাধারণত বলে-‘এই হল আমাদের ইতিহাস।’ পামুকের জাদুঘর যেন বলে- ‘এই আমারই ইতিহাস।’
এই পার্থক্যটি ছোট নয়। একটি রাষ্ট্র যুদ্ধ, বিজয়, সাম্রাজ্য, নেতা ও জাতীয় গৌরবের স্মৃতি সংরক্ষণ করে।
একজন সাধারণ মানুষ সংরক্ষণ করে একটি চায়ের কাপ। একটি জামা। একটি পুরোনো ছবি। একটি প্রেমপত্র। অথবা ৪,২১৩টি সিগারেট। রাষ্ট্রের ইতিহাসে হয়তো এসবের কোনো মূল্য নেই। কিন্তু মানুষের জীবনে কখনো কখনো এগুলোই সব। এই অর্থে পামুকের জাদুঘর একটি ছোট্ট ব্যক্তিগত রাষ্ট্র—যেখানে সংবিধান লিখিত নয়, কিন্তু প্রতিটি বস্তু একটি করে নাগরিক।
ওরহান পামুকের সাক্ষাৎকার
ইস্তাম্বুলের চুকুরজুমার সেই পুরোনো বাড়িটি, যেটিকে ওরহান পামুক একটি জাদুঘরে পরিণত করেছেন, সেখানেই নোবেলজয়ী এই লেখক কথা বললেন স্মৃতি, প্রেম, বস্তু ও জাদুঘর নিয়ে। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স প্রকাশিত হয়েছিল ২০০৮ সালে। চার বছর পর, ২০১২ সালে, উপন্যাসের কল্পিত জাদুঘরটি বাস্তব রূপ পায়। আর চলতি বছর নেটফ্লিক্সে সিরিজ হিসেবে গল্পটি নতুন করে পৌঁছে গেছে আরও বড় দর্শকের কাছে।
নোবেলজয়ী লেখক ওরহান পামুক নিজে জাদুঘরে ইউরোনিউজের তুর্কি দলের সদস্যদের স্বাগত জানান। সাক্ষাৎকারে তিনি ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ উপন্যাসের অন্তর্নিহিত দর্শন, বস্তুর মধ্যে লুকিয়ে থাকা স্মৃতির শক্তি এবং ভবিষ্যতে এই জাদুঘরের উত্তরাধিকার নিয়ে তার ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারটি ওরহান পামুক ৫ জুলাই ২০২৬ সালে ‘ইউরোনিউজ’-এ প্রকাশিত হয়।ওরহান পামুকের পাঠকদের জন্য দৈনিক এদিন সাক্ষাৎকারটি বাংলা ভাষায় পড়ার আমন্ত্রণ জানায়।
সাক্ষাৎকারে পামুক বললেন, কীভাবে একটি পুরোনো সিগারেটের বাক্স, লবণের পাত্র, ছবি কিংবা সিনেমার টিকিট হঠাৎ বহু বছর আগের ভুলে যাওয়া স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারে। তার কাছে জাদুঘর শুধু পুরোনো জিনিস রাখার জায়গা নয়; এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও শহরের সম্মিলিত স্মৃতিরও এক আশ্রয়।
‘আমি জানতাম না, এটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের মুহূর্ত’
‘আমি জানতাম না, এটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের মুহূর্ত’—বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম স্মরণীয় সূচনা-বাক্য এটি। কী মনে করেন, এই বাক্যটির এত শক্তি কোথায়?
প্রশ্ন:
উপন্যাসটির শেষ বাক্যটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ—‘সবাই জানুক, আমি খুব সুখী জীবন কাটিয়েছি।’ প্রথম ও শেষ বাক্যের মধ্যে তিনটি শব্দের মিল আছে—সুখ, জীবন এবং জানা। এই তিনটি বিষয় আমার উপন্যাসের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ওরহান পামুক:
আমরা অনেক সময় সুখী থাকি, কিন্তু বুঝতে পারি না যে আমরা সুখী। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কেমালও ঠিক এমনই।
আমার কাছে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সুখ। আমার প্রিয় লেখক তলস্তয়। তার প্রায় সব উপন্যাসেই জীবনের অর্থ এবং মানুষ কেন সুখী হয়—এই প্রশ্নগুলোর অনুসন্ধান আছে। দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্সও মূলত সুখ, জীবন, জীবনের অর্থ এবং সুখকে চিনে নেওয়ার গল্প। তাই উপন্যাসটি শুরু ও শেষ হয়েছে এমন দুটি বাক্য দিয়ে, যেখানে এই বিষয়গুলোই ফিরে আসে।

‘উপন্যাস ও জাদুঘর—দুটির কথা আমি একই সময়ে ভেবেছিলাম’
প্রশ্ন:
শুরু থেকেই কি জানতেন, একদিন এই গল্প সত্যিকারের একটি জাদুঘরে পরিণত হবে?
ওরহান পামুক:
অবশ্যই। উপন্যাসের শেষের দিকে কেমাল বিস্তারিতভাবে বলে, কীভাবে সে এই জাদুঘর তৈরি করেছে। অর্থাৎ, এমন নয় যে প্রথমে উপন্যাসটি জনপ্রিয় হলো, তারপর আমি ভাবলাম—এবার একটি জাদুঘর তৈরি করব। উপন্যাস এবং জাদুঘর—দুটির কথাই আমি একই সময়ে ভেবেছিলাম।
আসলে ১৯৯৮ সালে যখন আমি এই বাড়িটি কিনি, তখনও উপন্যাসটি লেখা শুরু করিনি। বাড়িটি ইস্তাম্বুলের চুকুরজুমা, জিহাঙ্গির ও তাকসিমের কাছাকাছি এলাকায়। বাড়িটি কেনার পরই ঠিক করলাম, উপন্যাসের নায়িকা এখানে থাকবে। পরে এই বাড়িটিকেই আমি জাদুঘরে পরিণত করি।
উপন্যাস লেখার সময়ই আমি জাদুঘরের জন্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করছিলাম। কারণ গল্পটির মূল কথা হলো—একজন পুরুষ একজন নারীর প্রেমে এমনভাবে পড়ে যে সেই প্রেম শেষ পর্যন্ত দুঃখের হয়ে ওঠে। তখন সে প্রিয় মানুষটিকে মনে রাখার জন্য তার ব্যবহার করা নানা জিনিস সংগ্রহ করতে শুরু করে।
আমি প্রথমে জিনিসগুলো সংগ্রহ করেছি। তারপর সেই জিনিসগুলোর দিকে তাকিয়ে উপন্যাস লিখেছি।
প্রশ্ন:
‘এটি সুখের নয়, বরং দুঃখেরও এক আর্কাইভ’
ওরহান পামুক:
এই জাদুঘরকে কি সুখের আর্কাইভ বলা যায়, নাকি এটি আসলে দুঃখের আর্কাইভ? দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স-এর মধ্যে অবশ্যই একটি আর্কাইভের বিষয় আছে। আমি এমনিতেই জাদুঘর পছন্দ করি। আর্কাইভ হলো সমাজের স্মৃতি। সেখানে সমাজের ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা জমা থাকে। তবে আর্কাইভ সাধারণত কাগজপত্র ও লেখা সংরক্ষণ করে, আর জাদুঘর সংরক্ষণ করে বস্তু—যেগুলোও সমাজের স্মৃতি বহন করে।
আমার জাদুঘরকে ছোট্ট একটি শহর-জাদুঘরও বলা যায়। এখানে ১৯৫০-এর দশক থেকে আজ পর্যন্ত ইস্তাম্বুলের জীবনের একটি অংশের ইতিহাস আছে। বিশেষ করে পশ্চিমা ধাঁচে গড়ে ওঠা ধর্মনিরপেক্ষ মধ্য ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত ইস্তাম্বুলের জীবন এখানে ধরা পড়েছে।
তাই এটি শুধু একটি উপন্যাস থেকে তৈরি জাদুঘর নয়; এটি একটি শহরের জীবনযাপনেরও জাদুঘর। একজন মানুষ কি একই সঙ্গে জাদুঘরের বস্তু ও বিষয় হতে পারে?
প্রশ্ন:
জাদুঘর তৈরির ধারণাটি কীভাবে এল?
ওরহান পামুক:
যেভাবে আমি দ্য ইনোসেন্স অব থিংস বইয়ে, অর্থাৎ জাদুঘরের ক্যাটালগে লিখেছি, ধারণাটি প্রথম এসেছিল প্রিন্স আলি ভাসিফ এফেন্দির সঙ্গে দেখা হওয়ার পর।
তিনি ছিলেন অটোমান রাজপরিবারের শেষ দিকের সদস্যদের একজন। তুরস্কে রাজপরিবারের সদস্যদের ফিরে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর, ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে বা ১৯৮০-এর শুরুর দিকে তাঁর সঙ্গে একই টেবিলে বসার সুযোগ হয়েছিল আমার।
তিনি মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ার আন্তোনিয়াদিস জাদুঘরের পরিচালক ছিলেন। তার পরিচিতরা তখন বলছিলেন, ‘তাকে তুরস্কে কোনো কাজ দেওয়া যায় কি না।’ কারণ তার অর্থের প্রয়োজন ছিল।
আলাপের সময় তিনি বলেছিলেন, তার যৌবন কেটেছে ইহলামুর প্যাভিলিয়নে। তখন আমার মাথায় একটি চিন্তা এল—অটোমান সুলতানের নাতিকে যদি তার নিজের যৌবনের সেই প্রাসাদের পরিচালক করা হয়, কেমন হয়?
ইতিহাসে এমন উদাহরণও আছে। চীনে একসময় একজন সাবেক সম্রাট জাদুঘরের পরিচালক হয়েছিলেন। সেখান থেকেই আমার মনে আরেকটি প্রশ্ন এল—একজন মানুষ কি একই সঙ্গে জাদুঘরের বস্তু এবং বিষয় হতে পারেন?
এই জাদুঘরে যে জিনিসগুলো প্রদর্শিত—ফুসুনের সিগারেট, লবণের পাত্র, রান্নাঘরের নানা জিনিস, ছবি—সবই বস্তু। আর যে কণ্ঠস্বর দর্শককে গল্পটি শোনায়, সেটিই বিষয়। কিন্তু যদি প্রদর্শিত বস্তু এবং গল্প বলার কণ্ঠ—দুটিই একই মানুষের হয়?
একজন পরীক্ষাধর্মী ঔপন্যাসিক হিসেবে এই ধারণাটি আমার ভালো লেগেছিল। তাই আমি এমন একটি জাদুঘর তৈরি করতে চাইলাম, যেখানে গল্পের কথক নিজের জীবনের জিনিসপত্রই প্রদর্শন করবে—কীভাবে সে প্রেমে পড়েছিল, সেই প্রেমের কারণে কী কী জিনিস সে জমিয়ে রেখেছিল।
জাদুঘরে দর্শকদের স্বাগত জানাতে গিয়ে যে কণ্ঠ সে ব্যবহার করবে, সেটিই হবে উপন্যাসে ব্যবহৃত প্রথম পুরুষের কণ্ঠ।
‘কেমাল আসলে খুবই অসুখী মানুষ’।
প্রশ্ন:
উপন্যাসের শেষে কেমাল বলে, ‘সবাই জানুক, আমি খুব সুখী জীবন কাটিয়েছি।’ কিন্তু তাকে তো মোটেও সুখী মনে হয় না।
ওরহান পামুক:
হ্যাঁ, সবাই দেখতে পারে যে কেমাল খুবই অসুখী। সে প্রেমে পুড়ছে। যারা এই বইটি ভালোবাসেন, যারা নিজেদের এই বইয়ের মধ্যে খুঁজে পান, তারা সুখী প্রেমিক নন। বরং তারা সেইসব মানুষ, যারা প্রেমের কষ্ট ভোগ করেছেন।
উপন্যাসের শেষ দিকে দেখা যায়, কেমালই আমার কাছে এসে তার গল্প বলছে। সে কিছুটা বিভ্রান্ত, জটিল ও অস্থির—যেমন আমরা দৈনন্দিন জীবনে কাউকে অস্থির অবস্থায় দেখি। কেমালের জীবন অসুখী হয়ে উঠেছিল প্রেমের যন্ত্রণায়। একই সঙ্গে যে পশ্চিমা ধাঁচের উচ্চ-মধ্যবিত্ত সমাজে সে বেড়ে উঠেছিল, সেখান থেকেও সে একসময় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সে ভেবেছিল, সমাজ যেমন তার গল্প শুনে হাসতে পারে, পাঠকরাও হয়তো হাসবে। তাই সে যেন নিজেকেই বোঝাতে চায়—‘না, ব্যাপারটা এমন নয়। সবাই জানুক, আমি খুব সুখী জীবন কাটিয়েছি।’
কিন্তু উপন্যাসটি আরেকটি কথাও বলে। আপনি ৫০০ পৃষ্ঠার উপন্যাসটি পড়েছেন, জাদুঘরটি দেখেছেন, সিরিজটি দেখেছেন। তখন হয়তো মনে হবে—হ্যাঁ, আমি খুব অসুখী ছিলাম। কিন্তু সাধারণ, নিরানন্দ, প্রেমহীন জীবনের চেয়ে আমি বরং এমন একটি গভীর প্রেমের জীবন বেছে নেব।

সত্যিকারের সুখ হলো গভীরভাবে বেঁচে থাকা। শুধু প্রেমে সুখী হওয়া নয়। এমনকি এত গভীরভাবে প্রেমে পড়াটাও এক ধরনের সুখ হতে পারে। ফরাসি কবি আরাগঁ যেমন বলেছিলেন, সুখী প্রেম বলে কিছু নেই।
যদি সুখী প্রেম হয়, তাহলে সুন্দর সন্তান হবে, সুখী সংসার হবে। কিন্তু এমন গল্প নিয়ে আমি উপন্যাস লিখব কেন?
প্রশ্ন:
আপনার উপন্যাসে আমরা দেখি, বস্তু আর স্মৃতি বারবার একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। এ বিষয়ে একটু বলবেন?
ওরহান পামুক:
আমার মনে হয়, প্রতিটি বস্তুর চারপাশে একটি অদৃশ্য বলয় থাকে। আপনি চাইলে তাকে ‘আভা’ বা aura বলতে পারেন। সেই বলয়ের মধ্যে থাকে আমাদের স্মৃতি, আমাদের ধারণা, আমাদের অজানা পূর্বধারণা।
‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’—উপন্যাস এবং জাদুঘর—দুটিই এই ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
গল্পে কেমাল তার প্রিয় মানুষটির সঙ্গে দেখা করতে পারে না। তাই ফুসুনের ব্যবহার করা জিনিসগুলো সংগ্রহ করতে থাকে। সেই জিনিসগুলো যেন ধীরে ধীরে তার প্রিয় মানুষের বিকল্প হয়ে ওঠে। আমি এমন একজন ঔপন্যাসিক, যে জিনিসপত্রের দিকে খুব মন দিয়ে তাকাই। শুধু দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স-এ নয়, আমার অন্য উপন্যাসেও এর প্রমাণ পাবেন।
আমি বিশ্বাস করি, জিনিসের মধ্যে এক ধরনের জাদু আছে। ধরুন, আপনি আপনার প্রিয় মানুষের সঙ্গে সিনেমা দেখতে গেলেন। হাত ধরে সিনেমা দেখলেন। তারপর একসময় সেই মানুষটি আপনার জীবন থেকে হারিয়ে গেল। প্রেমটিও শেষ হয়ে গেল।
বহু বছর পর একদিন আপনি একটি পুরোনো কোটের পকেটে সেই সিনেমার টিকিটটি খুঁজে পেলেন। হঠাৎ সেই মানুষটি, সেই সময়, সেই প্রেম, এমনকি সেই কষ্টও যেন ফিরে এল। বস্তুর এই ক্ষমতা আছে—আমাদের ভুলে যাওয়া স্মৃতি ফিরিয়ে আনার। আমাদের মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা স্মৃতিগুলোকে জাগিয়ে তোলার।
‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ প্রকল্প—উপন্যাস এবং জাদুঘর—এই স্মৃতি ফিরিয়ে আনার শক্তির ওপরই তৈরি।
আমরা আমাদের প্রেমিক বা প্রেমিকার জিনিসপত্র রেখে দিই। পরে অন্য কাউকে বিয়ে করি, অন্য কারও সঙ্গে সুখী জীবন কাটাই, কিন্তু পুরোনো জিনিসগুলো কোথাও না কোথাও রেখে দিই।
কারণ আমরা আমাদের স্মৃতিকে সম্মান করি। নিজেদের অতীতকেও সম্মান করি। সেই অতীত যতই কষ্টের হোক না কেন, সেই জিনিসগুলো আমাদের জীবনের অংশ। দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স এমন একটি কাজই করেছে, যা মানুষ গোপনে করে থাকে। আমরা পুরোনো প্রেমের জিনিস নতুন প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখি। কিন্তু এই জাদুঘর সেগুলো লুকায় না—সবার সামনে তুলে ধরে।
যেন কেমাল বলছে, ‘সবাই জানুক, আমি একটি সুখী জীবন কাটিয়েছি। আমি ফুসুনের জিনিসপত্র সংগ্রহ করেছি। এই যে, দেখুন।’ ‘আগে দিনে ৬০–৭০ জন আসত, এখন হয়তো ৫০০ জন’
প্রশ্ন:
আপনার উপন্যাসটি ৬০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে এর জনপ্রিয়তাও অনেক। এ বছর টিভি সিরিজের কারণে জাদুঘরটিও আরও পরিচিত হয়েছে। এত বছরে কেমন দর্শক তৈরি হয়েছে?
ওরহান পামুক:
এই জাদুঘরটি প্রায় ১৫ বছর ধরে খোলা। দর্শকদের প্রায় ৪৫ শতাংশ ইউরোপ ও পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আসেন। সিরিজটি প্রচারের পর তুরস্কের দর্শকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। প্রথম দিকে বছরে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ আসতেন প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন। তাদের টিকিটের টাকাতেই জাদুঘর চলত। এখন সিরিজের প্রভাবে হয়তো প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মানুষ আসছেন।
আমি জাদুঘরের জন্য কখনো রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো সাহায্য পাইনি। রাজনৈতিক কারণে নয়—রাষ্ট্র সাহায্য দিতে চাইলে আমি নিতাম। কিন্তু তারা আগ্রহ দেখায়নি। বরং ইউরোপের পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন দেশ—চীন, কোরিয়া ইত্যাদি থেকে আসা আন্তর্জাতিক দর্শকরাই জাদুঘরটিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তাদের কাছে আমি খুবই কৃতজ্ঞ।
এমন সময়ও গেছে যখন জাদুঘরে দর্শক কম ছিল, কিন্তু তবুও কর্মীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার না পেলে হয়তো এই জাদুঘর তৈরি করার অর্থ আমার থাকত না। আমি নোবেল পুরস্কারের অর্থ ব্যবহার করেই জাদুঘরটি তৈরি করেছি।
জাদুঘরটি খোলার পর থেকেই বিভিন্ন পর্যটন গাইডে ইস্তাম্বুলের ‘অবশ্যই দেখার মতো’ ১৫–২০টি জায়গার মধ্যে এর নাম এসেছে। এ বিষয়টি আমাকে সবসময় আনন্দ দিয়েছে। এসব গাইড পশ্চিমা দর্শকদের এখানে আসতে সাহায্য করেছে। আর তাদের কারণেই জাদুঘরটি এত বছর টিকে আছে। সিরিজ প্রচারের পর তুরস্কের মানুষও দরজার সামনে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেছেন। তাদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ।
এই সিরিজের পর আমার বিশ্বাস আরও বেড়েছে যে দর্শকদের ভালোবাসায় জাদুঘরটি আরও বহু বছর টিকে থাকতে পারে। তবে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না।
‘আমি চাই, এটি ইস্তাম্বুলের মানুষের জীবন ও স্মৃতির জাদুঘর হয়ে থাকুক।’
প্রশ্ন:
ভবিষ্যতে দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স-এর কী ধরনের উত্তরাধিকার দেখতে চান?
ওরহান পামুক:
আমি চাই, এটি ইস্তাম্বুলের মধ্য ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাপন, তাদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র এবং শহরের দৈনন্দিন জীবনের একটি জাদুঘর হয়ে থাকুক। অথবা বলা যায়, সেই নায়িকার—যে তুলনামূলকভাবে নিম্ন-মধ্যবিত্ত—জীবনেরও একটি স্মৃতি হয়ে থাকুক। ওরহান পামুক এমন একটি জাদুঘরের কথা ভেবেছিলেন। উপন্যাস লেখার সময়ই তিনি জাদুঘরটির কথা চিন্তা করেছিলেন। এটি একটি অভিনব ও স্বতন্ত্র ব্যাপার।
আমি যখন একে একে জিনিসগুলো সংগ্রহ করছিলাম, তখন সেই জিনিসগুলোর দিকে তাকিয়েই উপন্যাস লিখছিলাম সবচেয়ে বড় কথা, এই জাদুঘরের নিজস্ব একটি আবহ আছে। ইস্তাম্বুলের পুরোনো নগরজীবনের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রিক স্থাপত্যের বাড়িতে ঢুকলে আপনি হঠাৎ এক অন্য জগতে চলে যান।
জাদুঘর আমাদের স্থান ও স্থাপত্যের মধ্য দিয়ে অন্য এক পৃথিবীতে নিয়ে যায়।
আজ পশ্চিমা বিশ্বের অনেক শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত মানুষ রবিবারে গির্জার বদলে জাদুঘরে যান। জাদুঘরের মধ্য দিয়েই তারা তাদের আধ্যাত্মিক জীবনের একটা অংশ পূরণ করেন। আমি মনে করি, ভবিষ্যতে যখন আমি আর থাকব না, তখনও এই জাদুঘরের মাধ্যমে আমি মানুষের আধ্যাত্মিক জীবনের একটি অংশ হয়ে থাকতে পারব—শুধু বই ও লেখার মাধ্যমে নয়, বাস্তব একটি জায়গার মধ্য দিয়েও। তবে সেখানে শুধু আমি থাকব না।
যেসব মানুষ আমার মতো একই ফোন ব্যবহার করেছেন, একই লবণের পাত্র, একই ধরনের টুপি, পোশাক কিংবা ছাতা ব্যবহার করেছেন—তারাও এখানে বেঁচে থাকবেন। দর্শকরা দেখতে পাবেন, ১৯৭৪ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে ইস্তাম্বুলে কীভাবে মানুষ জীবনযাপন করত। তারা এটাও মনে রাখবেন যে, এই জীবনকে ধরে রাখার জন্যই আমি এসব জিনিসের মধ্যে একটি গল্প লিখেছিলাম।
তারা হয়তো ভাববেন—একজন লেখক এমন একটি অভিনব কাজ করেছিলেন। আর সেই ভাবনা থেকেই তাঁরা আমাদের জীবনকে সম্মান করবেন, আগ্রহ নিয়ে দেখবেন। আমার সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা হলো—আমি এই জাদুঘরটি তৈরি করেছি, একে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি এবং এর উপন্যাসটিও লিখেছি, যা এক অর্থে এই জাদুঘরের ক্যাটালগ।
এভাবেই একটি প্রেমের গল্প, কিছু পুরোনো জিনিস এবং একটি শহরের দৈনন্দিন জীবন—একসঙ্গে মিলে স্মৃতির একটি ঘর হয়ে উঠেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









