দৈনিক এদিন অনলাইন মহানবমী উপলক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাসহ ভবানীপ্রসাদ মজুমদারের ‘সব দুর্গাই থাকুক সুখে’ কবিতাটি পাঠকের সামনে রাখল। দেবী দুর্গার শক্তিকে নতুনভাবে অনুধাবন করতে কবিতাটি পথ দেখাবে।
‘সব দুর্গাই থাকুক সুখে’ কবিতায় কবি ভবানীপ্রসাদ মজুমদার দুর্গাপূজার প্রচলিত ভাবনাকে এক ভিন্ন সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন। দেবী দুর্গা শক্তি, সাহস ও অসুরবিনাশের প্রতীক। কিন্তু কবি প্রশ্ন তোলেন, মণ্ডপের আলোকোজ্জ্বল প্রতিমার বন্দনার বাইরে, আমাদের চারপাশে যে অসংখ্য নারী প্রতিদিন জীবনসংগ্রাম করছেন, তাঁদের জীবনে সেই শক্তি ও আনন্দের প্রতিফলন কোথায়?
কবিতায় উঠে এসেছে রিকশাচালক, দিনমজুর, পাথরভাঙা শ্রমিক, কয়লাখনির কর্মী, গৃহকর্মী, চা-বাগানের শ্রমিক, নার্স ও সবজি বিক্রেতার মতো নানা পেশায় যুক্ত নারীদের জীবন। তাদের প্রত্যেকের নাম যেন দুর্গা। কিন্তু তারা পূজার সম্মান পান না; অনেকেই বঞ্চিত হন ন্যূনতম স্বাচ্ছন্দ্য ও সুখ থেকেও। এই বৈপরীত্যই কবিতার মূল বক্তব্য।
সহজ ভাষা ও ছন্দের মধ্য দিয়ে কবি মনে করিয়ে দেন, কেবল প্রতিমার পূজা নয়, জীবন্ত নারীর দুঃখ লাঘব এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোই দুর্গোৎসবের প্রকৃত সার্থকতা। এই মানবিক আবেদনই কবিতাটিকে উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক সাম্য ও মর্যাদার কবিতায় পরিণত করেছে।
সব দুর্গাই থাকুক সুখে
এক দুর্গা রিক্সা চালায় কুচবিহারের হাটে
এক দুর্গা একশো দিনের কাজে মাটি কাটে |
এক দুর্গা রাস্তা বানায় পিচ ও পাথর ঢালে
এক দুর্গা রোজ চুনো মাছ ধরছে বিলে – খালে।
এক দুর্গা করছে মাঠে দিনমজুরের কাজ
এক দুর্গা খিদেয় কাঁদে, পায়নি খেতে আজ।
সবাই জানি, এদের কারো হয়না কোনও পূজো
এরা তো মা তোমার মতো নয়কো দশভুজো।
সব দুর্গার চোখে-মুখেই ফুটবে হাসি কবে?
মাগো, তোমার পুজো সেদিন সত্যি সফল হবে।
এক দুর্গা পাথর ভাঙে রোজই আসানসোলে
এক দুর্গা পেটের জ্বালায় খনিতে কয়লা তোলে।
এক দুর্গা সাত-আট বাড়ি কষ্টে বাসন মাজে
এক দুর্গা কারখানাতে ব্যস্ত নানান কাজে।
এক দুর্গা চা-বাগানে তোলে চায়ের পাতা
এক দুর্গা পাড়ায় পাড়ায় ঘুরেই সারায় ছাতা।
সবাই জানি, এদের কারো হয়না কোনও পুজো
তাই বলি মা, এদের চোখেও পূজোর খুশি খুঁজো।
সব দুর্গার চোখে-মুখেই ফুটবে হাসি যবে
মাগো, তোমার পূজো সেদিন সত্যি সফল হবে
এক দুর্গা হাসপাতালের সবার চেনা আয়া
এক দুর্গা, নার্সদিদি তাঁর মনে ভীষণ মায়া।
এক দুর্গা সবজি বেঁচে নিজের পায়ে দাঁড়ায়
এক দুর্গা মুরগি কাটে, নিজেই পালক ছাড়ায় |
এক দুর্গা হোটেল চালায়, বানায় মাংস-ভাত
এক দুর্গা বুট-পালিশে জোরসে চালায় হাত |
এমনি হাজার দুর্গা যারা পায় না কোনও পূজো
এদের দুঃখ-কষ্ট তুমিই দরদ দিয়ে বুঝো |
সব দুর্গার চোখে-মুখে ফুটলে হাসি তবে
মাগো, তোমার পূজো সেদিন সত্যি সফল হবে |


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









