কিছু জয় শুধু তিন পয়েন্টের হিসাব নয়। কিছু জয় একটি দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে, বদলে দেয় ড্রেসিংরুমের আবহ, আর মনে করিয়ে দেয়—খারাপ সময়েরও শেষ আছে। টটেনহামের জন্য কোভেন্ট্রি সিটির বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় ছিল তেমনই এক রাতের গল্প। রবার্তো দে জারবি পেলেন তাঁর কাঙ্ক্ষিত প্রথম জয়, আর আলোটা সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে পড়ল জেমস ম্যাডিসনের ওপর।
প্রিমিয়ার লিগে টটেনহামের হয়ে ম্যাডিসনের প্রথম একাদশে ফেরার দিনটি ছিল আবেগে ভরা। ১৮ মাসের অপেক্ষা, চোটের দীর্ঘ অন্ধকার আর বারবার পিছিয়ে পড়ার হতাশা পেরিয়ে তিনি ফিরলেন নিজের পুরোনো ক্লাবের বিপক্ষে। কোভেন্ট্রিতেই তাঁর ফুটবলের শুরু। সেই পরিচিত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর প্রত্যাবর্তন যেন ফুটবলজীবনের একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়ার মুহূর্ত।
কিন্তু ফুটবল আবেগকে সম্মান করলেও শেষ পর্যন্ত তার বিচার হয় মাঠের পারফরম্যান্সে। ম্যাডিসন সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন দুর্দান্তভাবে।

মোহাম্মদ কুদুস ডান দিক থেকে বল নিয়ে কোভেন্ট্রির রক্ষণকে ব্যস্ত করে বক্সের সামনে ম্যাডিসনের দিকে পাস বাড়ালেন। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা তাঁকে যথেষ্ট জায়গা দিয়েছিলেন। ম্যাডিসন এক মুহূর্তও নষ্ট করলেন না। প্রথম স্পর্শেই বাঁকানো শট, বল গিয়ে আশ্রয় নিল গোলের ওপরের কোণে। গোলটি শুধু টটেনহামকে এগিয়ে দিল না, দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে আসা একজন ফুটবলারের সামর্থ্যও মনে করিয়ে দিল।
তবে প্রত্যাবর্তনের এই গল্পে বাধা হয়ে দাঁড়াল কোভেন্ট্রি। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই জ্যাক রুডোনি সমতা ফেরালেন। টটেনহামের রক্ষণে ভুলের সুযোগ নিয়ে বাঁ দিক থেকে আক্রমণ তৈরি করে তাঁর জোরালো শট জালে পাঠালেন। ম্যাচ আবার অনিশ্চিত হয়ে উঠল।
এমন সময়ে ভালো দল আর আত্মবিশ্বাসহীন দলের পার্থক্য বোঝা যায়। টটেনহাম এবার আর ভেঙে পড়েনি। ৫৮ মিনিটে ওমর মারমুশ মিলান ফন এভাইকের বিপক্ষে নিজের দক্ষতা দেখিয়ে বক্সে জায়গা তৈরি করলেন। এরপর তাঁর জোরালো শট কোভেন্ট্রির গোলরক্ষককে পরাস্ত করে। আবার এগিয়ে গেল স্বাগতিকেরা।
এই রাতের আরেকটি আবেগঘন মুহূর্ত ছিল দেজান কুলুসেভস্কির মাঠে ফেরা। ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর হাঁটুর চোটের পর এই প্রথম টটেনহামের হয়ে খেলতে নামলেন সুইডিশ ফরোয়ার্ড। তাঁর প্রত্যাবর্তনে গ্যালারির উচ্ছ্বাস ছিল স্বাভাবিক। যে দল দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের সেরা খেলোয়াড়দের হারানোর ধাক্কা সামলেছে, তাদের কাছে এমন ফেরা নতুন আশার নাম।
তবু শেষ বাঁশি বাজার আগে স্বস্তি নিশ্চিত হয়নি। কোভেন্ট্রি লড়াই চালিয়ে গেছে, চোটের কারণে টটেনহামকে খেলোয়াড়ও বদলাতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে বেন ডেভিসের গোল নিশ্চিত করে জয়।
এই ফল টটেনহামকে লিগের তলানি থেকে ওপরে ওঠার সুযোগ দিল। কিন্তু দে জারবির কাছে এর মূল্য সম্ভবত আরও বেশি। মারবেলায় রোদে কাটানো সময়ের পর উত্তর লন্ডনের ঠান্ডা রাতে তাঁর দল খুঁজে পেল জয়ের উষ্ণতা। ম্যাডিসন দেখালেন, দীর্ঘ বিরতি প্রতিভাকে মুছে দিতে পারে না। আর টটেনহাম পেল এমন একটি রাত, যেখান থেকে নতুন করে শুরু করার সাহস পাওয়া যায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









