দেশে সংখ্যালঘু সনাতন সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলা, নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে এবং জাতীয়ভাবে আলোচিত আট দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি অপর্ণা রায় দাস।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত মে থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটেছে, যা আমাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে। দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, নির্যাতন, মন্দির ভাঙচুর, লুটপাট ও সামাজিক নিপীড়নের ঘটনা বেড়েছে।
অপর্ণা রায় দাস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দিপু দাসকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাকে ‘মব জাস্টিসের’ ভয়াবহ উদাহরণ। সিলেটে খগেন্দ্র দাস নামে এক দোকানদারের ওপর মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে হামলা, শরীয়তপুরে শিক্ষক সুজিত কর্মকারকে লাঞ্ছনা এবং ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের এক শিক্ষককে অপদস্থ করার ঘটনাও ঘটেছে। বগুড়া, পিরোজপুর, মাদারীপুর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন মন্দিরে ভাঙচুর ও চুরির ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি হবিগঞ্জে এক শিশুকে ধর্ষণ, চট্টগ্রাম ও মাদারীপুরে হত্যাকাণ্ড, ঠাকুরগাঁও ও যশোরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং দেশত্যাগের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট কমিটি ৭টি দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে– সাম্প্রদায়িক হামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে, খগেন্দ্র দাস ও সুজিত কর্মকারের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং মব জাস্টিস বন্ধে আইন প্রণয়ন করতে হবে মঠ, মন্দির ও শ্মশানের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, স্বাধীন ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন’ গঠন করতে হবে, ধর্মীয় উসকানি ও গুজব ছড়ানোকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় কারণে হেনস্তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে উত্থাপিত জাতীয় ৮ দফা দাবির প্রতি বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট পূর্ণ সমর্থন ও একাত্মতা প্রকাশ করছে।
এসব দাবির মধ্যে রয়েছে– সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় একটি সুনির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সমস্যা ও দাবিদাওয়া বাস্তবায়নের জন্য পৃথক সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, হিন্দু ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে পূর্ণাঙ্গ ‘হিন্দু ফাউন্ডেশনে’ রূপান্তর এবং বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্যও সমমানের প্রতিষ্ঠান গঠন, মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় নতুন আইন প্রণয়ন এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ ও হোস্টেলে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় আচার পালনের জন্য পৃথক প্রার্থনার কক্ষ বা স্থান স্থাপন, সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ডের আধুনিকায়নের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষার মানোন্নয়ন, এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি বাড়িয়ে ৫ দিন করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসু, সহসভাপতি গৌতম মিত্র, সুবীর দত্ত, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সীমান্ত দাস প্রমুখ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









