মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ভারতের সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভারত সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ১১ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে। বাকিদের সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বিএসএফের ৩৬টি পুশইন চেষ্টাও বিজিবি প্রতিহত করেছে।
অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ভারতের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। তবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা এবং ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









