অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত কারামুক্ত হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় জামিন মঞ্জুরের পর তিনি মুক্তি পান।
রাজধানীর কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসেন বারকাত।
কারা অধিদফতরের এআইজি (মিডিয়া) জান্নাতুল ফরহাদ রবিবার (২১ জুন) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আদালতের রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর আবুল বারাকাতকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১৬ জুন আদালত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জামিন মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর দুদিন আগেই আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় অধ্যাপক আবুল বারকাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়। সেদিন তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে পরের দিন ১৫ জুন শুনানির দিন ধার্য করেন। সেদিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় পরদিন ১৬ জুন দুপুরে আবারও জামিন চেয়ে আবেদন করা হলে আদালত ৫ হাজার টাকা বন্ডে পুলিশ রিপোর্ট (তদন্ত প্রতিবেদন) দাখিল করা পর্যন্ত আবুল বারকাতের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালতে আবুল বারকাতের পক্ষে জামিন শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শাহীনুর ইসলাম। শুনানিতে তিনি বলেন, কী কারণে তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো, ঘটনার সঙ্গে তার কী সম্পৃক্ততা রয়েছে তা আমাদের জানা নেই। তিনি অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষ। অসুস্থতা ও বয়স বিবেচনায় তার জামিন প্রার্থনা করছি। আর তিনি যে ব্যক্তি, তাতে তার এই ঘটনার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকার বা কোনোভাবে জড়িত থাকার কথা নয়। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন এই জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ জুলাই রাতে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









