ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় নতুন দিন ধার্য করা হয়।
এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর মামলার আসামিদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, সচিব, প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস) লিমিটেডকে টোল আদায়ের কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ৫ বছরের জন্য ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে কার্যাদেশ পেয়ে মোট ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকার বিল গ্রহণ করে।
দুদকের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি ৪২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা যোগসাজশের মাধ্যমে এ অনিয়ম ঘটিয়ে অবৈধভাবে লাভবান হয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তানজিল হাসান আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিরা দেশত্যাগ করলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।
গত বছরের ১২ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক তানজিল হাসান বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৬ সালে পূর্ববর্তী দরপত্র বাতিল করে পরিকল্পিতভাবে একক উৎসভিত্তিক দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং প্রতিযোগিতা ছাড়াই সিএনএস লিমিটেডকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণে স্বচ্ছতা না রেখে শতাংশভিত্তিক হার নির্ধারণ করা হয়, যা পরবর্তীতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়।
দুদকের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, একই সেতুর টোল আদায়ে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ের ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করলে সিএনএস লিমিটেডকে দেওয়া চুক্তি অস্বাভাবিকভাবে ব্যয়বহুল ছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









