আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ভোটগ্রহণের সময় সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত আসনের ব্যবস্থা থাকবে এবং পুরো প্রক্রিয়া গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬’ নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। সভায় ভোটগ্রহণের স্থান, সময়, পদ্ধতি এবং গণমাধ্যমের উপস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন। নির্বাচন কমিশনের ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যালট পেপার সংসদ সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেবেন।
সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পর সামনে রাখা তিনটি ব্যালট বাক্সের যেকোনো একটিতে ব্যালট পেপার জমা দিতে পারবেন। মোট ব্যালট থাকবে ৩৪৯টি।
ভোটগ্রহণ শেষে অধিবেশন কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, “বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনার কাজ শুরু হবে। গণনা শেষে প্রাথমিক ফলাফল সেখানেই ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। পরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।”
তিনি বলেন, “ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার কার্যক্রম সংবাদকর্মীদের জন্য সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে। সাংবাদিকদের বসার জন্যও নির্ধারিত স্থান রাখা হবে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণনার প্রক্রিয়া গণমাধ্যমের উপস্থিতিতেই প্রত্যক্ষ করা যাবে।”
ব্যালট পেপারের কাঠামো তুলে ধরে ইসি সচিব বলেন,“ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। একটি অংশকে মুড়ি বলা হয়। সেখানে ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের জায়গা থাকবে। অন্য অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। ভোটারকে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে।”
নির্বাচনি কাজে ইসির ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন জানিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, “দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত থেকে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করবেন।”
কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের প্রার্থীর বাইরে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিলে সেটি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় ‘ফ্লোর ক্রসিং’ হিসেবে বিবেচিত হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি নির্বাচনের পদ্ধতিগত বিষয় নয়, রাজনৈতিক প্রশ্ন। এ বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকেই উত্তর নেওয়া ভালো।”
ইসির তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘ সময় ধরে একক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। এবার একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









