পরিচালক অরুণ মাথেশ্বরনের ডিসি একটি শক্তিশালী প্রতিশোধের গল্প। লোকেশ কানাগরাজ ও ওয়ামিকা গাব্বি অভিনীত সিনেমাটি সহিংসতা, প্রতিশোধ, শোক ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে একসঙ্গে তুলে ধরেছে। অনিরুদ্ধের সঙ্গীত ও আবহসংগীত সিনেমাটিকে আরও শক্তিশালী করেছে, যা শেষ দৃশ্যের পরও দর্শকের মনে থেকে যায়।
রকি ও সানি কাইধাম-এর মতো ডিসি-তেও দেখা যায় এমন কিছু মানুষকে, যারা ভেঙে পড়া ব্যবস্থার কাছে অসহায়। নারীরা পুরুষতান্ত্রিক সহিংসতার শিকার হন এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধই তাদের ন্যায়ের ভাষা হয়ে ওঠে।
লোকেশ কানাগরাজ অভিনীত দেবদাস, অর্থাৎ দাস, একজন গ্যাংস্টার। অপরাধজগত ছেড়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। পুলিশবাহী একটি গাড়িতে হামলা করে অস্ত্র লুট করার পর সে ও তার দল আত্মগোপনে যায়। এরই মধ্যে এক শোকাহত নারী দাসের কাছে এসে জানান, পুলিশ তার স্বামীকে হত্যা করেছে এবং ছেলের পড়াশোনার জন্য রাখা টাকাও নিয়ে গেছে। নিজের মাকে হারানোর কষ্ট বয়ে চলা দাস ওই নারীর পাশে দাঁড়ায়। সে দায়ী পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে এবং নিজের দলকে আরও বিপদের মুখে ফেলে।
এরপর পুলিশ দাস ও তার দলকে ধরতে তৎপর হয়। শুরু হয় টানটান উত্তেজনার ধাওয়া। এই সময় দাসের জীবনে আসে বার-গায়িকা পার্বতী ও চন্দ্রা। ওয়ামিকা গাব্বি অভিনীত চন্দ্রা এবং পার্বতী—দুজনের জীবনই পুরুষতান্ত্রিক নিপীড়নে ক্ষতবিক্ষত। তাদের উপস্থিতি দাসের জীবন ও চিন্তাকে বদলে দেয়।

অরুণের আগের সিনেমাগুলোর মতো ডিসি-তেও ভাঙা মানুষ ও অবিচারের শিকার নারীদের গল্প রয়েছে। তবে এবার গল্প বলার ধরনে এসেছে নতুনত্ব। দাস শুধু খুন করে বেড়ানো একজন অপরাধী নয়; তার রাগ ও সহিংসতার পেছনে রয়েছে গভীর শোক। সিনেমাটি ক্লাসিক দেবদাস-এর মূল ভাবনাকে নতুনভাবে ব্যবহার করেছে।
সিনেমার অন্যতম বড় শক্তি এর স্টাইলিশ অ্যাকশন ও অনিরুদ্ধের জোরালো সঙ্গীত। রক্ত, গুলি ও ভয়াবহ সহিংসতা থাকলেও সেগুলো গল্পের বাইরে মনে হয় না। বিশেষ করে ওয়ামিকা গাব্বির একটি দৃশ্য দর্শকের মনে দাগ কাটে, যখন চন্দ্রা প্রথমবার বন্দুক হাতে নেয়। তার ক্ষোভ ও প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা দৃশ্যটিকে স্মরণীয় করে তোলে।
লোকেশ কানাগরাজের অভিনয় বেশ ভালো, যদিও তীব্র রাগ, শোক ও আবেগের কিছু দৃশ্যে আরও গভীরতা আশা করা যায়। সঞ্জনাও সীমিত সময়ের মধ্যে ভালো অভিনয় করেছেন। কৃষ্ণ ধায়ালের পুলিশ চরিত্রটি দর্শকের মধ্যে ঘৃণা তৈরি করতে সক্ষম। বাকি অভিনেতারাও গল্পে যথেষ্ট উষ্ণতা ও ভার যোগ করেছেন।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ডিসি শক্তিশালী। অ্যাকশন, মুকেশের চিত্রগ্রহণ এবং জি কে প্রসন্নর দ্রুতগতির সম্পাদনা একসঙ্গে সিনেমাটিকে আকর্ষণীয় করেছে। তবে প্রথম এক ঘণ্টায় কিছু সংলাপ তুলনামূলক দুর্বল ও কৃত্রিম মনে হয়েছে।
সব মিলিয়ে ডিসি সহিংসতাকে মহিমান্বিত করার চেয়ে সেই সহিংসতার পেছনের শোক ও ক্ষতকে বোঝার চেষ্টা করেছে। অরুণ মাথেশ্বরনের দৃষ্টিনন্দন নির্মাণের সঙ্গে আবেগপূর্ণ গল্প এবং অনিরুদ্ধের শক্তিশালী সঙ্গীত মিলে এটি বছরের অন্যতম স্মরণীয় প্রতিশোধের সিনেমা হয়ে উঠেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









