জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ শনাক্তকরণের অংশ হিসেবে ১১৪ জনের মরদেহ উত্তোলন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরইমধ্যে নতুন করে ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে এই মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সিআইডি।
এই আট জন হলেন-
• মো. মাহিন মিয়া (৩০)। তার বাবার নাম গাজী মামুদ ও মায়ের নাম জোসনা বেগম। মাহিনের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ফুলপুর গ্রামে। মাহিন মারা যান ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই। তার জন্ম ১৯৯৪ সালে।
• আসাদুল্লাহ (৩১); তার বাবা মৃত আব্দুল মালেক এবং মায়ের নাম আশেয়া বেগম। শহীদ আসাদুল্লাহর গ্রামের বাড়ি শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী থানা। আসাদুল্লাহ মারা গেছেন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই; তার জন্ম ১৯৯৩ সালে।
• পারভেজ বেপারী (২২); বাবা সবুজ বেপারী ও মা শামসুন্নাহার। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার বারোহাটিয়া গ্রামে। ২০০২ সালে জন্ম নেওয়া পারভেজ মারা গেছেন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই।
• রফিকুল ইসলাম (৫১); বাবা মৃত আব্দুল জব্বার শিকদার। রফিকুল ইসলামের বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার সাতকাছিনা গ্রামে। ১৯৭৩ সালে জন্ম নেওয়া রফিকুল মারা গেছেন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই।
• সোহেল রানা (৩৭); বাবা মৃত মো. লাল মিয়া ও মা রাশেদা বেগম। তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানায়। সোহেল রানার জন্ম ১৯৮৭ সালে; মারা গেছেন ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই।
• রফিকুল ইসলাম (২৮); বাবা মৃত খোরশেদ আলম। রফিকুলের বাড়ি ফেনী জেলায়। ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয় এই তরুণ মারা গেছেন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই।
• ফয়সাল সরকার (২৫); তার বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। ফয়সালের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার কাচিমারা গ্রামে। ফয়সালের জন্ম ১৯৯৯ সালে; তিনি মারা গেছেন ২০২৪ সালের ২২ জুলাই।
• ৫৮ বছর বয়সী কাবিল হাসানের বাবা মৃত বুলু মিয়া, মায়ের নাম ছামেনা বেগম। তার বাড়ি ঢাকার মুগদা থানার গলিতে। তিনি মারা গেছেন ২০২৪ সালের ২ অগাস্টে।
সিআইডি জানায়, রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।প্রতিটি মরদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।
সিআইডি আরও জানায়, এ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্য থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে এরইমধ্যে ৮ জন অজ্ঞাতপরিচয় শহীদের পরিচয় সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









