পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানও উপস্থিত ছিলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘‘মূলত ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। এর ফাঁকে সরকারের পলিসি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় নতুন যারা এসেছেন, তাদের উনি স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষত মন্ত্রীর (ড. আবদুল মঈন খান) সঙ্গে ওনাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সেই সুবাদে উনার আসা।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সরকার, সরকারের পলিসি এবং আমাদের ইশতেহারে যে বিষয়গুলো ছিল, সেগুলো আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গত ৬ মাসে কতদূর নোটিশ করেছি, অগ্রগতি কী, এ বিষয়গুলো নিয়ে মূলত আলোচনা হয়েছে।’’
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখানে ওয়াটার সাপ্লাই (পানি সরবরাহ), ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট (বর্জ্য ব্যবস্থাপনা), রিনিউয়েবল এনার্জি (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা পিপিপি ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে বিনিয়োগ করতে পারে আলোচনা হয়েছে।
সেই বিষয়গুলো মার্কিন রাষ্ট্রদূত অফিশিয়ালি নোটিশ করবে বলে জানান রাষ্ট্রদূত।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘‘বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন সরকারের যে সুসম্পর্ক রয়েছে, তা যেন আরও গভীর হয় এবং সামনের দিনে যেন সেই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, এ ব্যাপারে মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত একমত হয়েছেন।’’
তিনি বলেন, ‘‘সামনের দিনে দুদেশের সরকার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। আমাদের ওয়াটার সাপ্লাই, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ও রিনিউয়েবল এনার্জিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার ব্যাপারে রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেছেন।’’
এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে দুদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে বসবেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘পরবর্তীতে আমাদের অফিশিয়ালি সেক্রেটারি লেভেলে এবং ওনাদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আবার বসবেন এবং কথা বলবেন।’’
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কী ধরনের বিনিয়োগ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘রিনিউয়েবল এনার্জি, এটি ওয়েস্ট টু এনার্জি হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের প্রচুর ময়লা-আবর্জনা প্রত্যেক সিটি করপোরেশনেই তো ডাম্পিং অবস্থায় আছে। এরই মধ্যে উত্তর সিটিতে চায়নার একটি কোম্পানির সঙ্গে আমরা চুক্তি করেছি। তারা আগামী ১৮-২০ মাসের মধ্যেই সেখানে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ময়লা-আবর্জনা থেকে, মানে ওয়েস্ট টু এনার্জির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দেবে। সেই কাজ চলমান আছে।’’
দুদেশের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘না, এসব বিষয়ের তো আমাদের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। এগুলো তো পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেখবে। আমরা লোকাল গভর্নমেন্ট বিষয়েই মূলত আলোচনা করেছি।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









