ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা হবে, এরপর ধীরে ধীরে এর গতি ফিরবে। বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নির্বাচিত গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
শিল্প খাতের সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিল্পভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের আওতাধীন ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম’-এর অধীনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষকদের যুক্ত করার ক্ষেত্রে এটিকে দেশের প্রথম সরকারি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে এবং তা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে। অর্থনীতিকে সংকট থেকে বের করে আনার পথ তৈরি হচ্ছে। এ জন্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ শিথিল, নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের সুফল ধীরে ধীরে পাওয়া যাবে।
কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে সারাদেশে দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সব উদ্যোগ মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্প প্রতিযোগিতা এবং উদ্ভাবন কর্মসূচির অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাহী কর্মসূচি পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন। তিনি জানান, শিল্প খাতের বিভিন্ন সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধানের জন্য জমা পড়া ১২৩টি প্রকল্পের মধ্য থেকে ১২টি প্রকল্প বাছাই করা হয়েছে। নির্বাচিত গবেষকরা এক বছর গবেষণার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধানের পথ বের করবেন।
অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ শিল্প গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবন উদ্যোগটি শিল্পবান্ধব ও বাস্তবমুখী সমাধান তৈরির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সক্ষমতা জোরদার এবং দক্ষ জনশক্তির ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিংফেং ঝাং বক্তব্য দেন। তিনি কর্মসূচির লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি জানান।
পরে বিভিন্ন খাতে উদ্ভাবনী গবেষণার জন্য নির্বাচিত ১২ জনকে অর্থ ও পুরস্কার দেওয়া হয়। শিল্প খাতের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে গবেষণার কাজে এই অর্থ ব্যবহার করবেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









