প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে জ্বালানি কাঠামো নিশ্চিত করা হবে। আমরা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাত্রা করছি।
শুক্রবার রাত সোয়া ৮টায় তার রাজবাড়ী জেলার কলিমহড় গ্রামের নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।
তিতুমীর বলেন, আমরা যদি বিদ্যুৎ গ্রাহককেই বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী হিসেবে নিশ্চিত করতে পারতাম তাহলে আমাদের বিদ্যুৎ খাতে এতটা সমস্যায় পড়তে হতো না। তিনি বলেন, সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে গ্রাহক নিজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারতো। আমরা সেটা করতে পারিনি, এ জন্য বিদ্যুৎ সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানির ক্ষেত্রে সংকটের কারণে আমাদের সাধারণ মানুষ এবং কলকারখানাগুলো দুর্ভোগে পড়েছে। আজকের সমস্যা অতীতের সরকারের দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতির কারণে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এ সংকটকে আরো ঘনীভূত করেছে।
তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে।
‘আমরা খুব শিগগির গ্যাসের কুপ খননের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি কারণ, গ্যাসের মাধ্যমে খুব সহজে কম দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। আমরা ইতোমধ্যেই ১৫০টি কুপ খননের চিন্তা করেছি। এ ব্যাপারে দেশের বাপেক্সকে কাজে লাগানো হবে। অতীতের সরকার স্বজনপ্রীতির কারণে এটিকে কোন কাজে লাগায়নি।’
‘নদীতে সঠিক পরিমাণে পানি থাকলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন সঠিকভাবে বজায় থাকবে। এ জন্য বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করার অঙ্গীকার করেছেন। তারই পদক্ষেপ হিসেবে একনেকে পদ্মা ব্যারেজের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, পদ্মা ব্রিজের মাধ্যমে শুধু পানির রিজার্ভার তৈরি করা হবে না সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের উজানের পানির হিস্যা যেমন প্রয়োজন, তেমনি আমাদেরও পানি সম্পদেরও সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রয়োজন।
উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ৫৪টি নদীর সাথে আমাদের পানি প্রবাহের সম্পর্ক রয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রধান ভিত্তি হচ্ছে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ন্যায়ের ভিত্তিতে আমরা এটি প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমরা মনে করি, আন্তর্জাতিক আইনের স্বীকৃতির ভিত্তিতে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে ভাটি অঞ্চলের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যেই আমাদের সরকার চুক্তির ব্যাপারে নেগোসিয়েশন জন্য একটি কারিগরি টিম গঠন করেছে এবং সেটি শিগগির ভারতকে অবহিত করবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









