অটোরিকশা রাখা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের জেরে হামলার শিকার হয়ে নিহত হন স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে নিজের ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন তার ছোট ছেলেও।
এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার ১৫ আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে মামলাটির দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের দপ্তরে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিহত এসআই আলতাফ হোসেনের পরিবারের কল্যাণে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। এরই মধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে পরিবারকে ৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। পরিবারের ব্যবসা সচল রাখতে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা ও সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আলতাফ হোসেনকে মরণোত্তর পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়ার জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় অটোরিকশা রাখা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হামলার আশঙ্কায় তিনি তার বড় ছেলে মো. শরিফুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেন।
মামলার এজাহার ও সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।
বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান আলতাফ হোসেনের ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম। এ সময় তিনিও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন আলতাফ হোসেন। প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), রাঙামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি ও বরিশাল জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন পুলিশের দায়িত্ব পালনের পর অবসরের আগেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
মৃত্যুকালে স্ত্রী, বড় ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম ও ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামকে রেখে গেছেন আলতাফ হোসেন।
তার বড় ছেলে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ফার্মাসি সম্পন্ন করেছেন। ছোট ছেলে ইউসেপ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









