গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, গুঞ্জন ও মিথ্যা তথ্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী।
তিনি বলেন, ‘‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকা মানেই কারও বিরুদ্ধে ইচ্ছেমতো যা খুশি লেখা নয়। স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও থাকতে হবে।’’
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, সরকার স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে। তবে স্বাধীনতার কথা বলার সময় এমন কোনো অবস্থান নেওয়া যাবে না, যাতে স্বৈরাচারী আচরণের জন্ম হয়।
তিনি বলেন, ‘‘স্বাধীনতা মানে এটা নয় যে, যা ইচ্ছে আপনি তা লিখবেন।’’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ এ এম সালেহ শিবলী বলেন, ‘‘বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সাত কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করছেন। অনেক সময় কারও বিরুদ্ধে কোনো তথ্য যাচাই না করেই লেখা বা প্রচার শুরু হয়ে যায়।’’
তিনি বলেন, ‘‘যার বিরুদ্ধে কোনো কথা বা অভিযোগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তার বক্তব্য নেওয়া কিংবা তথ্যের সত্যতা যাচাই করার বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্ব পায় না।’’
ডিজিটাল মাধ্যমে অসত্য তথ্য মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।’’
অপতথ্য মোকাবিলায় গণমাধ্যমগুলোকে নিয়মিত তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, ‘‘প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে নিয়মিতভাবে ‘ফ্যাক্ট চেক’-এর ব্যবস্থা থাকা উচিত। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি মোবাইল জার্নালিজম এবং সিটিজেন জার্নালিজমের ক্ষেত্রেও তথ্য যাচাইকে গুরুত্ব দিতে হবে।’’
সারাদিনের প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে কোনটি সত্য আর কোনটি অসত্য—তা নিয়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বিশেষ অনুষ্ঠান বা প্রতিবেদন করারও তাগিদ দেন তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিধি ও সীমা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ এ এম সালেহ শিবলী বলেন, ‘‘স্বাধীনতার সীমা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তবে প্রত্যেকের স্বাধীনতার পাশাপাশি একটি সীমারেখাও রয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমার যেমন স্বাধীনতা আছে, এর একটি সীমানারেখাও রয়েছে। তবে সে সীমানারেখা সরকার বা আমি-আপনি নির্ধারণ করব না, সেই সীমানারেখা নির্ধারণ করবে আদালত।’’
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল সঞ্চালনা করেন।
এ সময় ডিআরইউর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মেহেদী আজাদ মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









