স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চলমান ও ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় এসব প্রকল্প নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এবং সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক বিলম্ব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ সময় বাড়লে সরাসরি প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই প্রতিটি প্রকল্পে সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।
একই সঙ্গে নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পের ‘ডিপিপি’ দ্রুত প্রণয়নেরও তাগিদ দেন মন্ত্রী।
কারাগারসংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বিধিনিষেধের কারণে কাজের স্বাভাবিক গতি কিছুটা ব্যাহত হওয়া যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে সাধারণ সিভিল ওয়ার্ক ও অবকাঠামোগত প্রকল্পে কোনো ধরনের বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তর নির্মাণসহ সব সাধারণ অবকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপরও গুরুত্ব দেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
প্রতি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ডোপ টেস্টের সুবিধা বাড়ানো, হাজতখানা ও মালখানা সংস্কার এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল ফরেনসিক অবকাঠামো স্থাপনের প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি।
দেশের গ্রামীণ এলাকার থানাগুলোকে মানসম্মত মডেল থানায় রূপান্তরের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘প্রোটোটাইপ ডিজাইন’ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যেসব এলাকায় জমির সংকট রয়েছে, সেখানে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ করে একক ও সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লজিস্টিকস ও যানবাহনের সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারি প্রকল্প থেকে সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে এবং একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি এড়াতে পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে ‘প্রোগ্রামেটিক বা ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বর্তমান সরকারের বাকি চার থেকে সাড়ে চার বছরের মেয়াদে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে চলমান প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও ‘রিস্কোপিং’র ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতের উন্নয়নে এডিপিতে মোট ২ হাজার ৬৬২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৫৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ বা অনুদান হিসেবে ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা রয়েছে।
‘সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ’ গড়ার ভিশন সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে বিএনপির ‘নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬’র অঙ্গীকার অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ২৬টি প্রতিশ্রুতির ম্যাপিং সম্পন্ন হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশল (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১)-এর ‘থ্রি আর স্ট্র্যাটেজি’ অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা খাতকে রূপান্তরধর্মী উন্নয়নের মাধ্যমে আরও সুসংহত করার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অধীন ১০টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









