বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশের যাত্রা। তারেক রহমানের শপথের পর প্রথমে নতুন সরকারের মন্ত্রী এবং পরে প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথ পড়ান। একই সঙ্গে প্রায় দুই যুগ পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের যাত্রা শুরু হলো। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারে দেশের ২৫ জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি।
বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত নোয়াখালীর কোনো নেতার জায়গা হয়নি মন্ত্রিসভায়। আওয়ামী লীগ–অধ্যুষিত গোপালগঞ্জসহ কয়েকটি জেলাও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পাচ্ছে না। দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জামায়াত–অধ্যুষিত এলাকাগুলোও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নতুন সরকারের ৪১ জন কখনও কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেননি। বাকি ৯ জনের বিভিন্ন সময় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল প্রথমবার সরকার পরিচালনার দায়িত্বে এসে বেশির ভাগ নতুনদের নিয়ে পথ চলার পরিকল্পনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যা দৃশ্যমান তার মন্ত্রিসভার তালিকাতে। তবে অভিজ্ঞদেরও সঙ্গী হিসেবে রেখেছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসনে জয়ী হয়। বিএনপি জোটের শরিকেরা ৩টি আসন পায়। বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটানসহ ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ ছাড়াও বাংলাদেশ সংসদ কমপ্লেক্সের জমকালো দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং তাঁদের মেয়ে জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এর কয়েক মিনিট পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর প্রথমে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন।
পরে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রীদের শপথের পর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
মন্ত্রিসভার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, নিতাই রায় চৌধুরী, আসাদুল হাবিব দুলু ও আ ন ম এহছানুল হকের মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাকি ৪১ জন কখনও কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেননি। কুমিল্লায় বিএনপি এবার ভালো করেছে। মন্ত্রিসভায়ও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। উত্তরবঙ্গের আসন কম পেলেও বিএনপির মন্ত্রিসভায় ওই অঞ্চলের আধিক্য দেখা গেছে। এবারের মন্ত্রিসভায় এমন অনেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন, যাঁদের বাবা অতীতে বিএনপির মন্ত্রিসভায় ছিলেন। রাজধানী ঢাকায় মন্ত্রিসভার সদস্য থাকলেও ঢাকার আশপাশের অনেক জেলা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থেকে বাদ পড়েছে।
কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গা—এই ৮ জেলার ৩০টি আসনের কোনোটিতেই জেতেনি বিএনপি। ফলে এই আট জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নেই। এর বাইরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী জেলা থেকে এবার কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। অতীতে এই জেলা থেকে মওদুদ আহমদের মতো নেতারা বিএনপির মন্ত্রী হয়েছিলেন। বড় জেলার মধ্যে মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়েছে খুলনা। এ জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই জয়ী হয়েছে বিএনপি। আবার যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই হেরেছে বিএনপি। একমাত্র আসনে জয়ী হয়েছেন অনিন্দ ইসলাম। তিনি এবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর বাবা তরিকুল ইসলাম বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারে অতীতে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
আওয়ামী লীগ–অধ্যুষিত জেলাগুলোতে মন্ত্রী নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জ থেকে এবার প্রথম তিনজন সংসদ সদস্য পেয়েছে বিএনপি। কিন্তু এ জেলার কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। গোপালগঞ্জের মতো মাদারীপুর ও শরীয়তপুরও আওয়ামী লীগ–অধ্যুষিত জেলা হিসেবে পরিচিত। অতীতের প্রায় সব নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা দুটি জেলায় জয়ী হয়েছেন। এবার শরীয়তপুরের তিনটি এবং মাদারীপুরের তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রিসভায় কেউ জায়গা পাননি। অবশ্য ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে একজন করে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির সাবেক নেতা কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। রাজবাড়ী থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
এবার ঢাকা জেলায় ২০টি আসনের মধ্যে ১৫টিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। রাজধানী ঢাকা থেকে শেখ রবিউল আলম পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আর প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন চারজন। এর মধ্যে ঢাকা-১৬ আসনে হেরে যাওয়া সাবেক ফুটবলার আমিনুল হককে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। ঢাকা জেলার দোহার, নবাবগঞ্জ, সাভার ও ধামরাইয়ে অতীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের বেশির ভাগ সময় জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। অতীতে নাজমুল হুদা, আবদুল মান্নানসহ অনেকেই ঢাকা জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এবার ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনে জয়ী হওয়ার পরও বিএনপির কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
ঢাকার পাশের জেলা মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর থেকে কেউ এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। মুন্সিগঞ্জ থেকে অতীতে বদরুদ্দোজা চৌধুরী, এম শামসুল ইসলাম, মিজানুর রহমান সিনহাসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু এবার এ জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় কেউ জায়গা পাননি। একইভাবে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির দলীয় প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। একটি আসনে জোটের শরিক জমিয়তে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির দখলে যায়। নারায়ণগঞ্জের চারজন বিএনপির সংসদ সদস্যের কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। গাজীপুরের পাঁচটি আসনের চারটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপির নেতারা। কাপাসিয়ার আসনটিতে জামায়াত জয়ী হয়েছে। অতীতে এই জেলা থেকে এম এ মান্নান, আ স ম হান্নান শাহসহ অনেকেই বিএনপির মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন। এবার এই জেলা থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। টাঙ্গাইল থেকে অতীতে একাধিক মন্ত্রি-প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার এই জেলা থেকে একমাত্র সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
এবার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বিএনপি তুলনামূলকভাবে কম আসনে জয়ী হয়েছে। সেই তুলনায় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এই দুই বিভাগে ভালো করেছে। রংপুর বিভাগে ৩৩টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে মাত্র ১৩টি আসন। অন্যদিকে জামায়াত পেয়েছে ১৭টি এবং এনসিপি ২টি। কিন্তু মন্ত্রিসভায় এ বিভাগের আধিপত্য দেখা গেছে। রংপুর বিভাগের মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্ত্রী হয়েছেন দিনাজপুর থেকে নির্বাচিত এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া লালমনিরহাট থেকে নির্বাচিত আসাদুল হাবিব দুলু মন্ত্রী ও পঞ্চগড়ের ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে ২৮টিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকি ১১টি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে রাজশাহী বিভাগের বগুড়ার সন্তান। এর বাইরে বিভাগ থেকে দুজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং চারজন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সিরাজগঞ্জ থেকে ইকবাল হাসান মাহমুদ, রাজশাহীর মিজানুর রহমান মিনু মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ইকবাল হাসান ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
অন্যদিকে মিনু রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বগুড়ার মীর শাহে আলম, নাটোর থেকে ফারজানা শারমিন, জয়পুরহাটের আবদুল বারী ও সিরাজগঞ্জের এম এ মুহিত। ফারজানা শারমিনের বাবা ফজলুর রহমান পটল ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সরকারে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
এবারের নির্বাচনে বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলে বিএনপি বিপুল সংখ্যক আসন জিতেছে। এর মধ্যে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে বিএনপি জয়ী হয়েছে। এ জেলা থেকে তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), জাকারিয়া তাহের ও শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। বৃহত্তর কুমিল্লার মধ্যে চাঁদপুর থেকে আ ন ম এহসানুল হক মিলন পূর্ণ মন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলের মধ্যে নোয়াখালী জেলায় কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নেই। তবে ফেনী থেকে নির্বাচিত আবদুল আউয়াল মিন্টু ও লক্ষ্মীপুর থেকে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্ত্রী হয়েছেন।
নতুন মন্ত্রিসভায় পুরনো অনেক নেতা স্থান পেলেও বাদ পড়েছেন দলের একাধিক হেভিওয়েট রাজনীতিক। মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার।
২০০১ সালের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মঈন খান এবং ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। এ ছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, দলের সিনিয়র নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুবদলের সাবেক সভাপতি বরকত উল্লাহ ভুলু, সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবদীন ফারুক এবং ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আরও বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। বিশেষ এই প্রেক্ষাপটে ওই বছরের ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। তারপর অতিবাহিত হয়েছে দেড় বছর। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নিলেন। এর মাধ্যমে দেড় বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার পেল বাংলাদেশ।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক চড়াই-উতরাই পার হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। অবশেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে থাকতে বাধ্য হন তিনি। তারেক রহমান দেশে ফিরতে না-ফিরতেই ৩০ ডিসেম্বর মারা যান তাঁর মা বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তবে মাতৃশোক কাটিয়ে ওঠার আগেই রাজনীতির মাঠে নেমে পড়তে হয় তারেক রহমানকে। অবশেষে আসে সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচনের দিন।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে। আদালতের নির্দেশনার কারণে দুটি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি। আর একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে নির্বাচন হয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









