রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ততা

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ততা

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সেহরি ও ইফতারের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিন সচিবালয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সচিবদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। 

এ সময় তিনি সব মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে রাখতেও নির্দেশনা দিয়েছেন। সচিবদের মেধাবৃত্তিক মূল্যায়ন করা হবে জানিয়ে বিএনপির দেয়া নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রীদের যে কোনো প্রভাব-প্রতিপত্তি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেয়ার একদিন পর গতকাল 
আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পৌঁছান। সেখানে তিনি তাঁর সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সচিবালয়ে পৌঁছালে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। 

বুধবার দায়িত্ব গ্রহণের দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। 

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নাগালে রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মোটামুটি প্রথম দিনে মন্ত্রিপরিষদের মিটিং করতে হয়। মন্ত্রিপরিষদের সবাই বসেছিলাম ওখানে উপদেষ্টারাও ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্দেশে কিছু বক্তব্য দিয়েছেন, অনুশাসনও দিয়েছেন। সাধারণত এটা হয় যে প্রথম ১০০ দিনে কি কি প্রায়রিটি আছে তা নির্ধারণ করা। আমরা এবার ১৮০ দিনের প্রায়রিটি নির্ধারণ করেছি। সেটা পরে আপনারা জানতে পারবেন। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো উন্নত করা, সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখা, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সেক্টরে যেন কোনো সমস্যা না হয় এগুলো আমাদের অগ্রাধিকার। 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এটি মন্ত্রিসভার (ক্যাবিনেট) বৈঠক নয়, এটি ছিল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য বৈঠক। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ মুহূর্তে অগ্রাধিকার হচ্ছে পবিত্র রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মানুষের সহনীয় রাখা এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বিশেষ করে তারাবি ও ইফতারের সময়। মূলত এই তিন বিষয় অগ্রাধিকারে এসেছে। এগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কর্মপরিকল্পনা দু-এক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর জানান সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের যে এত বিপুল জনসমর্থন—সেটার জায়গা থেকে প্রধানমন্ত্রী আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণ আমাদের কাছ থেকে যে সুশাসন এবং জবাবদিহি চায়, সেক্ষেত্রে আমরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বে আছি, তারা যেন যে কোনো ধরনের প্রভাব এবং স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করি এবং বিশেষ করে দুর্নীতির প্রশ্নে যেন আমাদের একটা শক্ত অবস্থান থাকে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীতে যে রমজান শুরু হচ্ছে, এই রমজানকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখা প্লাস হচ্ছে সেহরি, ইফতার, তারাবির সময়টা যেন বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন থাকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে এবং সরকারের যে কমিটমেন্ট, বিশেষ করে নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় জনসভায় যে বিষয়গুলো বলেছেন—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড সেগুলো কীভাবে ইমিডিয়েটলি কিছু দৃশ্যমান কাজ করা যায়, সেই বিষয়গুলো নিয়েও তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘোষণা ছিল, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিষয়ে সরকারের একটি উদ্যোগ থাকবে। সেটি নিয়েও তিনি আলোচনা করেছেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে কী করা যায়। সামগ্রিকভাবেই সব বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া সরকার ১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা নেবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিএনপির যে ১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা আছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেটি পরিমার্জন করে শিগগিরই জাতির সামনে তুলে ধরার নির্দেশনা দিয়েছেন। বিএনপি জনগণের জন্য কী করতে চায়, তা সেখানে স্পষ্ট করা হবে। জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, শর্ট টার্মে ১৮০ দিনের জন্য বিএনপির একটা প্ল্যান আছে যেটা আগেই তৈরি করা ছিল। সেটা আরেকটু রিফাইন করে জনগণের সামনে খুব দ্রুতই প্রেজেন্ট করা হবে, যাতে জনগণ বোঝে ইমিডিয়েটলি সরকার কী করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে, রমজানে যেসব চ্যালেঞ্জগুলো আসতে পারে সেগুলো যাতে ঠিকভাবে মোকাবিলা করা যায় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান জাহেদ উর রহমান। 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে, তাই প্রতিটি মন্ত্রণালয় যেন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

প্রধানমন্ত্রী সব মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে রাখতে চান জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, সে বিষয়েও তিনি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। 

এদিকে সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছিল, সেটি বাস্তবায়নে সচিবদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রথামাফিক সচিবদের সঙ্গে যে বৈঠক হয় সেটা হয়েছে। তাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগণ আমাদের ইশতেহারের ওপর ম্যান্ডেট দিয়েছে, সুতরাং জনগণের চাওয়া প্রাধান্য পাবে। তবে দেশের সংবিধান এবং আইন অনুযায়ী সবকিছু হবে। আর সচিবদের সে অনুযায়ী জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। আমরা বলেছি, সচিবদের মেধাবৃত্তিক মূল্যায়ন করা হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সরবরাহ ঠিক রাখার বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেছেন, যেহেতু উনি (প্রধানমন্ত্রী) রাজনীতি করেন, উনার ইশতেহার আছে। সচিবরা সবাই সরকারি কর্মকর্তা, তারা রাজনীতির অংশ না। জনগণ ম্যান্ডেট দিয়েছে জাতীয়তাবাদী দলের ইশতেহার দেখে, নিশ্চয়ই তারা ইশতেহারকে পছন্দ করেছেন। সেই ইশতেহার যেন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী সচিবদের অনুরোধ করেছেন। মেধাকে কাজে লাগিয়ে জনস্বার্থে দেশের জন্য ভালো কাজ করতে বলেছেন। 

তিনি বলেছেন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই। সচিবদের সঙ্গে মাত্র ১৫ মিনিট বৈঠক ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতার বাইরে বৈঠকে আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, উনার বক্তব্য হচ্ছে জনগণের প্রত্যাশা তো ইশতেহারে বলা আছে, এজন্য জনগণ ভোট দিয়েছে, সমর্থন করেছে। সুতরাং দেশের ভালোর জন্য উনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগিতা চেয়েছেন। এইটুকুই।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সচিবদের মাত্র ১৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়। এটা একটি সৌজন্য বৈঠক ছিল। প্রধানমন্ত্রী এই বৈঠকে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আমলাদের সহযোগিতা চান। তিনি সচিবদের উদ্যেশ্যে বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যে দল বা মতের হউন না কেন? সরকারকে সহযোগিতা করা আপনার দায়িত্ব। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচিবদের পূর্ণ সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.