তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। সাংবাদিক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে স্বাধীনতা চর্চার প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন নির্ধারণ করা হবে।’
সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম হলে ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল (ডিএসইসি) সদস্যদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তবে সেই স্বাধীনতা যেন নৈরাজ্যে পরিণত না হয়, সে জন্য সাংবাদিক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে স্বাধীনতা চর্চার প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন নির্ধারণ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব নীতিমালা সাংবাদিকদের মধ্য থেকেই উঠে আসবে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে গুণগত পরিবর্তন আনতে হলে সাংবাদিকদের বিভিন্ন স্তরের পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেকোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে সাব-এডিটররা মূলত মেরুদণ্ডের ভূমিকা পালন করেন। কাঁচা খবরকে প্রকাশযোগ্য করে তোলা এবং ফুটেজকে সংবাদ কনটেন্টে রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তারাই পালন করেন। একটি মিডিয়া হাউস তার সংবাদকে জনগণ, পাঠক ও দর্শকদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারবে, তা মূলত সাব-এডিটরদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে।
তিনি আরও বলেন, দেশে আন্তর্জাতিক মানের সাংবাদিকতা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো পুরনো কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এই পুরনো কাঠামো দিয়ে আধুনিক সাংবাদিকতা পরিচালনা সম্ভব নয়। প্রচলিত গণমাধ্যম থেকে নিউ মিডিয়ার জগতে প্রবেশের জন্য একটি রূপান্তর প্রক্রিয়া প্রয়োজন। সরকার সাংবাদিকদের সঙ্গে পরামর্শ করে গণমাধ্যম খাতের জন্য একটি পথনকশা প্রণয়ন করতে চায়, যার মাধ্যমে গণমাধ্যমকে একটি ডিজিটালাইজড ও আধুনিক মিডিয়া ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্র শিল্পে বেসরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার অর্থনীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হলেও সাংবাদিকদের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। মর্যাদাবিহীন ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, গণমাধ্যম উন্নয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করে শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি মুক্তাদির অনিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাওহার ইকবাল খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খোন্দকার আবু আশফাক এমপি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)’র সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, দৈনিক উত্তরদক্ষিণের সম্পাদক শেখ ফারুক আহমাদ প্রমুখ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









