বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্র এবং দেশের প্রধান বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। এই অঞ্চলের শিল্প কারখানা, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, বিশাল শিপিং ইয়ার্ড এবং দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে যে সুবিশাল কর্মসংস্থান ক্ষেত্র গড়ে উঠেছে, সেখানে নিয়োজিত লাখ লাখ শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করার শেষ ভরসাস্থল হলো চট্টগ্রামের দুইটি শ্রম আদালত। তবে, বিচারপ্রার্থীদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, শ্রম আইনের উদ্দেশ্য এবং আদালতের বাস্তব চিত্র আজ সম্পূর্ণ বিপরীত।
দ্রুত নিষ্পত্তির বিধান থাকা সত্ত্বেও, চট্টগ্রাম শ্রম আদালতের উভয় এজলাসে জমেছে প্রায় দুই হাজারেরও অধিক (বর্তমানে ২,১০০টির কাছাকাছি) মামলার বিশাল স্তূপ, যা দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং নতুন মামলা আসার গতি এই জটকে আরো ঘনীভূত করছে। দ্রুত ন্যায়বিচার প্রত্যাশী শ্রমিকের কাছে এই দীর্ঘসূত্রতা ক্রমশ এক চরম হতাশায় পরিণত হচ্ছে। আইনের সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া, বিচারক ও জনবলের তীব্র স্বল্পতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং কাঠামোগত দুর্বলতা- এ সবই এই জট তৈরির মূল কারণ।
এই অবস্থা শুধু বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে না, বরং দেশের শিল্প খাতেও এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে, যা জাতীয় উৎপাদনশীলতার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শ্রম অধিকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
আইনের চোখে দ্রুত বিচারের বাধ্যবাধকতা ও বাস্তবতা
ধারাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শ্রম আদালতকে বিশেষ আদালত হিসেবে গণ্য করা হয় এবং শ্রমিকদের জন্য তা সংক্ষিপ্ত বিচারালয় বা ‘সামারি ট্রায়াল’ হিসেবে কাজ করার কথা। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর সুস্পষ্ট বিধান অনুসারে, এই আদালতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে-
প্রথমত: ধারা ২১৬ (১২)-এর বাধ্যতামূলক নির্দেশনা হলো, একটি মামলা শুরু হওয়ার পর আদালতকে ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে কারণ লিপিবদ্ধ করে অতিরিক্ত ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি শেষ করার বিধান রয়েছে, অর্থাৎ মামলা নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো ১৫০ দিন। কিন্তু বাস্তবে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম শ্রম আদালত দুইটিতে, এই আইনি বাধ্যবাধকতা প্রায়শই লঙ্ঘিত হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত: মামলা আদালতে আসার আগে ধারা ২১০ (৪) ও (৬) অনুযায়ী সালিশ (কনসিলিয়েশন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রাথমিক ধাপ অতিক্রম করা বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়াটি যদি যথাযথভাবে সম্পন্ন হতো, তাহলে আদালতের ওপর মামলার চাপ অনেকাংশে কমত। কিন্তু সালিশকারীদের দক্ষতা ও জনবলের অভাবের কারণে অনেক বিরোধই সালিশে নিষ্পত্তি হয় না, যা সরাসরি আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
তৃতীয়ত: ধারা ২১৩ অনুযায়ী, কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই বা বরখাস্ত করা হলে, সেই আদেশের বিরুদ্ধে তাকে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে আবেদন করতে হবে। শ্রমিকের দিক থেকে দ্রুততার এই বাধ্যবাধকতা থাকলেও, মালিকপক্ষের কৌশলগত কালক্ষেপণের কারণে মামলার নিষ্পত্তিতে কোনো দ্রুততা থাকে না।
চতুর্থত: শ্রম আদালত একজন চেয়ারম্যান (জেলা জজ পদমর্যাদার) এবং একজন মালিক প্রতিনিধি ও একজন শ্রমিক প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত হয়। এই সদস্যদের নিয়মিত অনুপস্থিতি বা মতানৈক্য বিচারিক কাজকে ধীর করে দেয়। ফৌজদারি অপরাধ বিচারের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ধারা ২১৫ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
মামলা জট সৃষ্টির মূল কারণ
বিশিষ্ট আইনজীবী ও আদালত সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম শ্রম আদালতের এই বিশাল মামলা জট তৈরি হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কাঠামোগত এবং বিচারিক দুর্বলতা রয়েছে। এই বিষয়ে বিশিষ্ট আইনজীবীদের মতামতগুলো সমস্যাটির গভীরতা নির্দেশ করে। একজন বিশিষ্ট আইনজীবী এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন, ‘শ্রম আদালতের মামলা ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা থাকলেও তা নানা কারণে হয়ে ওঠে না।
মামলা দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বিচারকশূন্যতা, সমন জারিতে দেরি হওয়া এবং বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের অনুপস্থিতি।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশও অনেক সময় বিচারিক প্রক্রিয়াকে থামিয়ে রাখে, যার ফল ভোগ করতে হয় শ্রমিককে। আর এক আইনজীবী মন্তব্য করেন, ‘২০২৩ সালে করা কয়েকটি মামলা আছে, যেগুলোর এখন পর্যন্ত জবাবও দাখিল হয়নি। দুই মাসের বেশি সময় পর একেকটি মামলার ধার্য তারিখ পড়ছে। এতে করে মামলার দীর্ঘসূত্রতা বাড়ছে।’ এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, মামলার তারিখ নির্ধারণ এবং প্রাথমিক প্রক্রিয়াতেই দেড়শ দিনের আইনি সময়সীমার অর্ধেকের বেশি সময় চলে যাচ্ছে।
শ্রম আদালতের সাবেক এক চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ কালে তিনি এই সমস্যার বিচারিক দিকটি তুলে ধরে বলেন, শ্রম আদালত বিশেষ আদালত হলেও এখানে দেওয়ানি আইন, সাক্ষ্য আইনের সাহায্য নিতে হয়। তিনি মনে করেন, বিশেষ আইনে বিশেষ ব্যবস্থা না থাকলে নিষ্পত্তি দ্রুত হবে না এবং ‘সংক্ষিপ্ত বিচার’-এর বিকল্প নেই। তিনি আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। মালিকপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের কাছে প্রতিবার তারিখ নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেন।
কাঠামোগত দুর্বলতা এবং অবস্থানগত সমস্যা
আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবি হলো, শ্রম আদালতটি যাতে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে নিয়ে আসা হয়। বর্তমান শ্রম আদালতটি নগরীর পাঁচলাইশ থানাসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় পরিচালিত হচ্ছে। এই দূরত্বের কারণে চট্টগ্রাম আদালত ভবনকেন্দ্রিক অনেক অভিজ্ঞ আইনজীবী চাইলেও শ্রম আদালতে নিয়মিত মামলা পরিচালনা করতে যেতে পারেন না। এতে শ্রমিকরা অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন এবং মামলার গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাঠামোগত দুর্বলতা হিসেবে প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি শ্রমিকের জন্য মাত্র দুটি শ্রম আদালত অপ্রতুল। বিচারক (চেয়ারম্যান) পদে দীর্ঘদিন শূন্যতা থাকার প্রবণতা এবং প্রশাসনিক জনবলের তীব্র অভাবও মামলা জটকে বাড়িয়েছে। প্রথম শ্রম আদালতে বিচারাধীন বিপুল সংখ্যক মামলার মধ্যে শত শত মামলায় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে, যা বিচার প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি বন্ধ করে রেখেছে।
মামলার প্রকৃতি, অর্থনৈতিক প্রভাব ও বহুমাত্রিক বঞ্চনা
বিচারাধীন মামলাগুলোর অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের চাকরি পুনর্বহাল, বিনা কারণে চাকরিচ্যুত করার বিরুদ্ধে আবেদন, বকেয়া মজুরি আদায় এবং অন্যান্য পাওনাদি (যেমন- গ্র্যাচুইটি) সংক্রান্ত। এ ছাড়া, শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মালিক বা শ্রমিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং ট্রেড ইউনিয়ন নির্বাচন সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে। মামলার প্রায় ৬০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত, অর্থাৎ- গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল সেক্টর থেকে। গ্র্যাচুইটি হলো শ্রমিকের অবসরকালীন সঞ্চয়। গ্র্যাচুইটি সংক্রান্ত বিরোধের দীর্ঘসূত্রতা শ্রমিকের সামাজিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত হানে এবং তার বার্ধক্য জীবনকে অনিশ্চিত করে তোলে।
মামলা জটের কারণে শ্রমিকরা আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যে বকেয়া অর্থ শ্রমিকের প্রাপ্য, মালিক পক্ষ সেই অর্থ মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে তাদের ব্যবসায় খাটাতে পারে। এই কৌশলগত বিলম্বের মূল লক্ষ্য থাকে শ্রমিককে চাপ দেওয়া। শ্রমিকরা আর্থিক সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে তাদের প্রাপ্য পাওনার চেয়ে কম মূল্যে আপস করতে বাধ্য হন, যা শ্রম আইনের মূল উদ্দেশ্য- শ্রমিকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষাকে সম্পূর্ণ ব্যাহত করে। এই বিচারিক দুর্বলতা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতির উপর গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
সমাধানে করণীয়
আইনজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা হলো- মামলা জট নিরসনে এবং শ্রমিকবান্ধব বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি-
প্রথমত: আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি ও স্থানান্তর করা। আইনজীবীদের দাবি অনুসারে, আদালতের অবস্থান পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম আদালত ভবনকেন্দ্রিক করা এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কথা বিবেচনা করে শ্রম আদালতের সংখ্যা অন্তত চার থেকে পাঁচটিতে উন্নীত করা অত্যাবশ্যক। একই সঙ্গে, একটি পূর্ণাঙ্গ শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হলে হাইকোর্টে রিট আবেদনের চাপ কমবে।
দ্বিতীয়ত: বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি জোরদার করা। মামলা জট কমাতে সমঝোতা বা বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। শ্রম আদালতে মামলা দায়েরের আগেই সালিশ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং সালিশকারীদের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।
তৃতীয়ত: সংক্ষিপ্ত বিচার বাধ্যতামূলক করা। সাবেক বিচারক ও আইনজীবীদের মতে, আইন মেনে ১৫০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির জন্য ‘সংক্ষিপ্ত বিচার’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা উচিত এবং ধারা ২১৯ (১১) অনুসারে আইনজীবীদের ইচ্ছাকৃত কালক্ষেপণের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে জরিমানা আরোপ করা উচিত।
চতুর্থত: ডিজিটাল পদ্ধতি প্রয়োগ করা। মামলার তথ্য ব্যবস্থাপনা, সমন জারি এবং তারিখ নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল সিস্টেমে নিয়ে এলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সময়ক্ষেপণ কমবে। ই-সমন জারি প্রক্রিয়া শুরু করলে সমন জারির জটিলতা দূর হবে।
পঞ্চমত: আইনি সহায়তা (লিগ্যাল এইড) জোরদার করা। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর মতো সংস্থাগুলো দরিদ্র ও অসহায় শ্রমিকদের সরকারি খরচে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করে। শ্রম আদালতের বিশেষ কমিটিগুলোর মাধ্যমে এই সেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে আরো সক্রিয়ভাবে পৌঁছে দিতে হবে।
এই সমস্ত পদক্ষেপের পাশাপাশি, বিচারিক মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি। শ্রম আদালতকে শ্রমিকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যেখানে শ্রমিকরা দ্রুত, সহজে এবং সম্মানজনকভাবে ন্যায়বিচার লাভ করতে পারেন। চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে জমে থাকা মামলার এই বিশাল স্তূপ শুধু বিচার ব্যবস্থার অদক্ষতা নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি- শ্রমিকদের অধিকারের প্রতি অবহেলার এক গভীর এবং বিস্তৃত প্রতিচ্ছবি।
বিশিষ্ট আইনজীবী ও বিচারকরা একমত যে, এই জট কাটাতে হলে বিচারিক পদ্ধতির সরলীকরণ, আইনজীবীদের ইচ্ছাকৃত কালক্ষেপণ কঠোর হাতে দমন করা এবং আদালতের সংখ্যা ও জনবল বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। শ্রম আইন, ২০০৬-এর দ্রুত নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতি তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন কাঠামোগত সংস্কার এবং বিচারিক সদিচ্ছা একসাথে কাজ করবে।
শ্রমিকদের দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত হলেই কেবল শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও সমৃদ্ধি আশা করা যেতে পারে। এই জট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে, তা শুধু শ্রমিকদের ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ হবে না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনকে ম্লান করবে।
লেখক : সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









