পাবনা সদর উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা গুলি, অবৈধ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও ৩৬ বোতল মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় তমসের মোল্লা ও বাপ্পি (২৬) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত আকাশ মোল্লা অভিযানের আগেই পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে পাবনা সদর থানা চত্বরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের ভাদুরীডাঙ্গি গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি একনলা বন্দুক, একটি শুটার গান, আট রাউন্ড তাজা গুলি ও অবৈধ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তমসের মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের শাহের মোল্লার ছেলে।
পুলিশের দাবি, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভাদুরীডাঙ্গি গ্রামের আকাশ মোল্লা ও তমসের মোল্লার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তমসের মোল্লার দেখানো মতে আকাশ মোল্লার শয়নকক্ষ ও তমসের মোল্লার ঘর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের আগেই আকাশ মোল্লা বাড়ির দরজায় তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, একই দিন পাবনা সদর উপজেলার চক ছাতিয়ানী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৬ বোতল এসকাফ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য হেফাজতে রাখার অভিযোগে বাপ্পি (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ছাতিয়ানী মধ্যপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী ও খুলনা রেঞ্জের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশরাফের দিকনির্দেশনায় পাবনা সদর থানা এলাকায় সমন্বিত অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে পাবনা সদর থানা পুলিশ, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. সাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল ইসলাম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম এবং পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহাসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সাহা বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হবে। অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









