ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর ঢাকা-৬ আসনের একটি ভোটকেন্দ্রে লাঠিসোটা মজুদের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঘটনায় নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।
তিনি জানান, গত ৪ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে সূত্রাপুরের কাঠের পুল এলাকায় অবস্থিত কসমোপলিটন স্কুল—যা ঢাকা-৬ আসনের একটি ভোটকেন্দ্র—সংলগ্ন একটি ভবন থেকে পুলিশ ১৫২টি মোটা লাঠি (স্টাম্প) উদ্ধার করে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভবনটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর মালিকানাধীন।
ইশরাক হোসেনের দাবি, বিষয়টি নিয়ে আগেই একাধিকবার সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওসি ভবনে তল্লাশি চালানোর আগে মালিকপক্ষকে সতর্ক করেন। এতে করে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পিকআপ ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ লাঠিসোটা এবং সম্ভাব্য আগ্নেয়াস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, ‘একটি ভোটকেন্দ্রের আশপাশে যদি এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে সেখানে কীভাবে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব—সেটাই বড় প্রশ্ন।’ এ কারণেই কসমোপলিটন স্কুল ভোটকেন্দ্রটি পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে সূত্রাপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ও বিএনপির পক্ষ থেকে সম্মিলিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এটি শুধু নিরপেক্ষতার প্রশ্ন নয়, বরং এক ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার শামিল।’
নির্বাচনের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এতদিন ঢাকা-৬ আসনে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু এই ঘটনাটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পর একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নির্বাচনি পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ভুয়া ভোটার সংক্রান্ত প্রসঙ্গে বিএনপি প্রার্থী জানান, সাম্প্রতিক একটি অ্যাপ আপডেটের পর নতুন তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে কিছু হোল্ডিংয়ে ২০ জন পর্যন্ত অতিরিক্ত ভোটারের নাম পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে বিস্তারিত তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সংঘাত এড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের সহিংসতা চাই না। একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।’
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘কিছু জায়গায় নিরপেক্ষতা দেখা গেছে, আবার কোথাও কোথাও নিরপেক্ষতার বদলে সহযোগিতার চিত্রও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









