মেরুর আকাশে কখনো হঠাৎ জ্বলে ওঠে সবুজ আলো, কখনো তার সঙ্গে মিশে যায় নীল, বেগুনি, গোলাপি কিংবা লাল। আলো যেন আকাশের গায়ে কেউ তুলির আঁচড় কাটছে। আবার মুহূর্তেই সেই আলো বদলে যায়, ছড়িয়ে পড়ে, ঢেউ তোলে। এই অপূর্ব প্রাকৃতিক আলোর খেলাই অরোরা—উত্তর মেরুতে যাকে বলা হয় অরোরা বোরিয়ালিস বা নর্দার্ন লাইটস, আর দক্ষিণ মেরুতে অরোরা অস্ট্রালিস বা সাদার্ন লাইটস।
অরোরা আসলে সূর্য ও পৃথিবীর এক নীরব মহাজাগতিক নৃত্য।

সূর্য সব সময়ই মহাকাশে ছড়িয়ে দেয় নানা ধরনের বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত কণা। এই প্রবাহকে বলা হয় সৌরবায়ু। সেই কণাগুলো পৃথিবীর কাছে এলে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে তাদের মিথস্ক্রিয়া হয়। সূর্যের এই শক্তি পৃথিবীর চৌম্বক বলয়ে জমা হতে থাকে। পরে সেই শক্তির কিছু অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকে নেমে আসে।
সেখানেই শুরু হয় আলোর খেলা।
মহাকাশ থেকে আসা শক্তিশালী কণাগুলো যখন বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের মতো গ্যাসের পরমাণু ও অণুর সঙ্গে ধাক্কা খায়, তখন সেগুলো অতিরিক্ত শক্তি পায়। কিছুক্ষণ পর সেই বাড়তি শক্তি আলো হিসেবে বেরিয়ে আসে। অন্ধকার আকাশে তখন জন্ম নেয় অরোরা।
কিন্তু অরোরার রং সব সময় এক নয়। কখনো সবুজ, কখনো লাল, আবার কখনো নীল, গোলাপি বা বেগুনি। এর প্রধান কারণ হলো কোন গ্যাসের সঙ্গে কণার সংঘর্ষ হচ্ছে এবং বায়ুমণ্ডলের কত উচ্চতায় তা ঘটছে।

অক্সিজেন থেকে সাধারণত সবুজ ও লাল আলো তৈরি হয়। প্রায় ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার উচ্চতায় অক্সিজেনের আলোতে সবুজ রং বেশি দেখা যায়। আরও ওপরে, ২০০ কিলোমিটারের বেশি উচ্চতায়, তা লাল হয়ে উঠতে পারে।
নাইট্রোজেন তৈরি করতে পারে নীল ও গোলাপি আলো। নিচু উচ্চতায় এর আলোতে বেগুনি-লাল বা গোলাপি আভাও দেখা যায়। কখনো এসব রং একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। তখন আকাশে দেখা দেয় বেগুনি, গোলাপি কিংবা সাদা আলোর মায়াবী আভা।
অরোরা তাই শুধু আকাশের আলো নয়। এটি সূর্যের শক্তি, পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র আর বায়ুমণ্ডলের গ্যাসের মিলিত সুরে তৈরি মহাকাশের এক জীবন্ত আলোকনৃত্য।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









