কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ শুক্রবার সন্ধ্যার পর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আসার কথা থাকলেও ছাড়পত্র জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সাইফুর রহমান খান।
তিনি জানান, বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও ভারতের স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় এনওসি বা ছাড়পত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শুক্রবার মরদেহগুলো দেশে আনা সম্ভব হয়নি। তবে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শনিবার সকাল নাগাদ পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে আসবে।
অন্যদিকে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের এস এম আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করবে। আর নিহত রেবতী সরকারের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ ভারতে সৎকার করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি এর আগে নিশ্চিত করেছিলেন বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন।
নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন কুষ্টিয়া শহরের আরুয়াপাড়া, মোহিনী মিল এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের একমাত্র সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত (৩) এবং আফসানার বাবা মো. আকরাম আলী (৬৪)।
দেবাশীষ দত্ত দৈনিক আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ৯ এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী আফসানা শারমীন অসুস্থ ছিলেন। তার চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় গিয়েছিলেন। সেখানে নিউমার্কেট এলাকার শিখা ইন হোটেলে অবস্থানকালে অগ্নিকাণ্ডে তারা নিহত হন।
নিহত অন্য তিন বাংলাদেশির মধ্যে রয়েছেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার কসমেটিকস ব্যবসায়ী বাবু আহমেদ (৩৭), সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের এস এম আলিমুজ্জামান সাজু এবং একই জেলার রেবতী সরকার। সাজু স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। রেবতী সরকার চিকিৎসার জন্য ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
বুধবার রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুইজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। তাদের একজন হোটেলের ১৯ বছর বয়সী কর্মী এবং অন্যজন শিলিগুড়ির বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন। তবে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের জটিলতায় শুক্রবার মরদেহ দেশে আসেনি।
শনিবার মরদেহগুলো বেনাপোল বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি সাইফুর রহমান খান।
মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে শোক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









