মধ্যপ্রাচ্য, অর্থাৎ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের দামামা সহসাই থেমে যাওয়ার কোনো লক্ষণ এখনও সুস্পষ্ট হয়নি; উল্টো উত্তেজনার পারদ ক্রমে তীব্রতা ছড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প খাতে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাসকম।
সদস্যদের উদ্দেশে জারি করা বার্তায় সংস্থাটি বলেছে, চলমান বৈরী পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি সংস্থাকে তাদের ব্যবসার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সাইবার-সংক্রান্ত নিরাপত্তা অবকাঠামোকে জোরালো করতে হবে।
ন্যাসকম বলছে, সার্বিক অনিশ্চয়তার এমন কঠিন সময়ে সারাবিশ্বের আইসিটি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। বিপরীতে তৈরি হয়েছে ভুয়া তথ্য ছড়ানো, সাইবার হামলা ও জরুরি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণের আশঙ্কা। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের চরম অস্থিরতার প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক বাজারে।
সংস্থাটি পরামর্শে বলেছে, বহুল ব্যবহৃত সব প্রযুক্তি সংস্থাকে দ্রুত তাদের ব্যবসা সচল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে হবে। কারণ, যে কোনো সময় তাদের ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ও আক্রান্ত দেশে সম্ভাব্য সব ধরনের কাজের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। সবার আগে অগ্রাধিকার দিতে হবে কর্মীর নিরাপত্তাকে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে কর্মরত কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ করে দিতে হবে। এ ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতির ওপরে বিশেষ নজরদারি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ক্লাউড অবকাঠামো, ডেটা সেন্টারের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অবিচল রাখতে বিকল্প অবকাঠামো (রুট) তৈরি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তায় ন্যাসকম বলেছে, হঠাৎ করে আক্রমণের কারণে কোনো অঞ্চলে প্রযুক্তিগত পরিষেবা ব্যাহত হলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থায় পরিষেবা সচল করার পথ তৈরি করতে হবে। সাইবার নিরাপত্তার প্রশ্নে ঝুঁকিপূর্ণ সংস্থাকে আগাম সতর্ক থাকতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার এমন সময়ে সাইবার হামলা, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও জরুরি নেটওয়ার্কে আক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।
ইতোমধ্যে মার্কিন কিছু সংস্থাকে লগইন তথ্য রিনিউ, দ্রুত পাসওয়ার্ড বদল, সফটওয়্যারের সিকিউরিটি আপডেট করে নেওয়া ছাড়াও মাল্টিফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন সক্রিয় করতে কঠোরভাবে বলা হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ওপর তারা নিয়মিত নজরদারি করছে এবং ওই অঞ্চলে কর্মরত সদস্য সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই অঞ্চলে কর্মরত এমন প্রযুক্তি কর্মীর সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনিশ্চিত এমন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি শিল্পের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পূর্বপরিকল্পনা ও আগাম প্রস্তুতিই পারে এসব পরিষেবাকে অবিচল রাখার একমাত্র পথ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









