শরীয়তপুরের ডামুড্যায় দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ে যোগ দিতে এসে হামলার শিকার হয়েছেন ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকার। রোববার সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে তাকে বাধা দেওয়ার পর মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে প্রধান শিক্ষক সুজিৎ কর্মকার বিদ্যালয়ে ফটকের সামনে নামার পর কয়েকজন যুবক তাকে প্রবেশে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার সময় তাকে অটোরিকশায় তুলে দেওয়া হয় এবং সেখানেও মারধরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও স্থানীয় কয়েকজন মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন।
আহত সুজিৎ কর্মকার প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। পরে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারহানা ডেইজি জানান, আহত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মুখমণ্ডলসহ কয়েকটি স্থানে ফোলা দেখা গেছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সুজিৎ কর্মকার ২০১৩ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। প্রায় দুই বছর আগে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগও তোলা হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে তিনি আর বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসেননি এবং বিভিন্ন ধরনের ছুটিতে ছিলেন।
সুজিৎ কর্মকারের অভিযোগ, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই একটি মহল তাকে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি বিদ্যালয়ে যেতে পারেননি। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে অবহিত করে রোববার বিদ্যালয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হামলার শিকার হন।
তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ের গেটে পৌঁছানোর পর একটি সংঘবদ্ধ চক্র আমাকে বেদম মারধর করেছে। চিকিৎসা শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব।”
তবে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা দিয়েছেন বলে শুনেছি। আমার সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই।”
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইন গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আইয়ূবী বলেন, “প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। আজ বিদ্যালয়ে আসার সময় হামলার শিকার হওয়ার বিষয়টি তিনি আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









