মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের সন্ধানে এক ধাপ এগিয়ে গেল নাসা। লাল গ্রহটির পুরানো এক বেলেপাথরে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় জটিল জৈব অণুর সন্ধান পেয়েছে মঙ্গলে থাকা নাসার কিউরিওসিটি রোভার।
‘ওয়েট কেমিস্ট্রি’ পরীক্ষার ফলাফলে নিশ্চিত করা হয়েছে, মঙ্গলের ৩৫০ কোটি বছরের প্রাচীন বেলেপাথরে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সংরক্ষিত রয়েছে। যার মানে, অতীতে কোনো এক সময় হয়ত গ্রহটি প্রাণের অনুকূলে ছিল।
নাসার কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলের বড় আকারের ‘গেল ক্রেটার’ নামের গহ্বরের ‘গ্লেন টরিডন’ অঞ্চল থেকে কাদা মিশ্রিত এসব পাথর সংগ্রহ করেছিল।
রোভারের সঙ্গে থাকা ‘স্যাম্পল অ্যানালাইসিস অ্যাট মার্স’ নামের ভ্রাম্যমাণ যন্ত্রপাতির সেট এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেছে।
এ পরীক্ষাটি অনন্য, কারণ পৃথিবীর বাইরে এটিই প্রথম কোনো গবেষণা, যেখানে ‘টেট্রামিথাইল অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড’ বা টিএসএএইচ-এর মতো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয়েছে।
এ বিশেষ রাসায়নিকটি কিউরিওসিটি রোভারকে মঙ্গলের পৃষ্ঠে থাকা বড় বড় বিভিন্ন জৈব অণুকে ভেঙে ছোট করার সুযোগ দিয়েছে, যাতে রোভারের নানা যন্ত্রপাতি সেগুলোকে সহজে শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করতে পারে।
এ পরীক্ষার মাধ্যমে ২০টিরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন জৈব অণুর খোঁজ মিলেছে। প্রাপ্ত তথ্যে ‘ন্যাপথলিন’ ও ‘বেনজোথিওফিন’ এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে, যা লাল গ্রহটিতে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত অন্যতম বড় ও জটিল জৈব যৌগ।
এ ছাড়াও, এ পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো ‘এন-হেটেরোসাইকেল’ এর মতো উপাদানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা ডিএনএ ও আরএনএ গঠনের মূল ভিত্তি।
“এর আগে মঙ্গলের পৃষ্ঠে বা গ্রহটি থেকে আসা উল্কাপিণ্ডেও কখনো ‘নাইট্রোজেন হেটেরোসাইকেল’ এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি।”
মঙ্গলে আবিষ্কৃত অন্যান্য জৈব পদার্থের মতো এ গবেষণাটিও এখন পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণ নয় যে, গ্রহটিতে প্রাণ ছিলই। তবে মঙ্গলে প্রাণ থাকার জোরালো প্রমাণের তালিকায় এ গবেষণাটি নতুন মাত্রা যোগ করল।
গবেষকরা বলছেন এখন অন্তত বলা যায়, প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক উপাদান প্রাচীন মঙ্গলে বিদ্যমান ছিল।
এ গবেষণা আরেকটি বিষয়ও নিশ্চিত করেছে, জৈব পদার্থ মঙ্গলের পরিবেশে কোটি কোটি বছর টিকে থাকতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন পরীক্ষার পথ খুলে দেবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









