এই গভীর দার্শনিক বাণীটি ইংরেজ রোমান্টিক যুগের প্রখ্যাত কবি ও চিন্তাবিদ স্যামুয়েল টেলর কোলরিজের। বাণীটির অন্তর্নিহিত অর্থ হলো—জীবন ও মৃত্যু পরস্পর বিচ্ছিন্ন কোনো সত্য নয় বরং তারা একই বাস্তবতার দুই অবিচ্ছেদ্য দিক। মানুষের জন্মের মুহূর্ত থেকেই মৃত্যুর উপস্থিতি তার জীবনের সঙ্গে নীরবে সহাবস্থান করে। এই উপলব্ধি মানবজীবনকে আরও অর্থবহ, সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলে।
স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ জন্মগ্রহণ করেন ১৭৭২ সালের ২১ অক্টোবর, ইংল্যান্ডের ডেভনশায়ারে। তিনি ছিলেন একজন কবি, দার্শনিক, সাহিত্যসমালোচক ও চিন্তাবিদ। ইংরেজ রোমান্টিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরোধা হিসেবে কোলরিজ প্রকৃতি, মানবমনের রহস্য, কল্পনা ও আধ্যাত্মিকতার গভীর অনুসন্ধান করেছেন তাঁর সাহিত্যকর্মে। তাঁর বিখ্যাত কবিতাগুলোর মধ্যে The Rime of the Ancient Mariner, Kubla Khan এবং Christabel বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
কোলরিজের দর্শনে জীবন কখনোই স্থির বা একমাত্রিক নয় এটি পরিবর্তনশীল, ক্ষণস্থায়ী এবং অনিবার্য মৃত্যুর দিকে ধাবমান। তাই তাঁর এই বাণী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—মৃত্যুর বাস্তবতা অস্বীকার না করে, বরং তাকে মেনে নিয়ে জীবনকে সুন্দর, মানবিক ও অর্থপূর্ণ করে তোলাই মানুষের কর্তব্য। মৃত্যুর সচেতনতা জীবনকে হতাশ নয়, বরং গভীরতর করে তোলে।
এই বাণী মানব অস্তিত্বের চিরন্তন সত্যকে প্রকাশ করে। কোলরিজের এই ভাবনা আমাদের শেখায়, জীবন ও মৃত্যুর সহাবস্থানই মানবজীবনের প্রকৃত দর্শন এই উপলব্ধিই মানুষকে সংযমী, সংবেদনশীল ও সচেতন করে তোলে।



সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









