বিশ্বকাপের আর খুব বেশি দেরি নেই। এরই মধ্যে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। তবে এই সুখবরের আড়ালে লুকিয়ে আছে কিছু অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান, যা বিশ্বকাপের আগে ভাবিয়ে তুলতে পারে লিওনেল মেসিদের।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নিজেদের শেষ হোম ম্যাচে নেমেছিল স্পেন জাতীয় ফুটবল দল ও ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল। কিন্তু দুই ইউরোপীয় শক্তিই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। লা করুনিয়ার এস্তাদিও রিয়াজোরে ইরাকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে স্পেন। অন্যদিকে নঁতের স্তাদ দ্য লা বোজোয়ারে আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে গেছে ফ্রান্স।
এই ফলাফল সরাসরি প্রভাব ফেলছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে। ফিফার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, নতুন র্যাঙ্কিংয়ে আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে ১১ জুন। এমনকি হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে হারলেও লিওনেল স্ক্যালোনির দলের পয়েন্ট থাকবে ১,৮৭৪—যা স্পেনের সম্ভাব্য ১,৮৭৩ এবং ফ্রান্সের ১,৮৬৯ পয়েন্টের চেয়েও বেশি।
র্যাঙ্কিংয়ের সাম্প্রতিক ইতিহাসও বেশ নাটকীয়। মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতির পর স্পেনকে সরিয়ে শীর্ষে উঠেছিল ফ্রান্স। তার আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আর্জেন্টিনাকে টপকে এক নম্বরে যায় স্পেন। আর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল আলবিসেলেস্তেরা।
তবে শীর্ষে ফেরা আর্জেন্টিনার জন্য পুরোপুরি স্বস্তির নয়। ইতিহাস বলছে, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কোনো দলই এখন পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি।
১৯৯৪ বিশ্বকাপে শীর্ষে ছিল জার্মানি, কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। ১৯৯৮ সালে শীর্ষে থাকা ব্রাজিল ফাইনালে হারে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে। ২০০২ বিশ্বকাপে এক নম্বর ফ্রান্স বিদায় নেয় হতাশাজনকভাবে, আর শিরোপা জেতে ব্রাজিল।
২০০৬ বিশ্বকাপে শীর্ষে থাকা ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি। ২০১০ সালে ব্রাজিল এক নম্বরে থেকেও ট্রফি জিততে পারেনি, সেবার চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। ২০১৪ বিশ্বকাপে শীর্ষে থাকা স্পেনের স্বপ্ন ভেঙে দেয় জার্মানি।
২০১৮ সালে জার্মানি ছিল এক নম্বরে, কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স। আর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগে শীর্ষে ছিল ব্রাজিল, শেষ পর্যন্ত ট্রফি জেতে আর্জেন্টিনা।
শুধু ‘র্যাঙ্কিং অভিশাপ’ই নয়, আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে আর্জেন্টিনার সামনে। গত ৬৪ বছরে কোনো দলই টানা দুইবার বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। নিজের ইতিহাসেও পরপর দুইবার শিরোপা জয়ের নজির নেই আর্জেন্টিনার।
তাই র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফেরা যেমন আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে, তেমনি ইতিহাসের এই পরিসংখ্যানগুলো মেসিদের সামনে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এখন দেখার বিষয়, উত্তর আমেরিকার মঞ্চে আর্জেন্টিনা কি এই দুই বাধা ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখতে পারে কিনা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









