শ্বাসরুদ্ধকর, উত্তেজনাপূর্ণ আর রোমাঞ্চে ঠাসা এক ফুটবলীয় লড়াইয়ে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের সমতা শেষে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের জোড়া আঘাতে চূর্ণ হয় ১০ জনের সুইজারল্যান্ডের প্রতিরোধ।
ম্যাচের শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলতে থাকা আর্জেন্টিনা দশম মিনিটেই লিড নেয়। নবম মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া এক মাপা কর্নার সুইস ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকানজি লাফিয়েও ক্লিয়ার করতে পারেননি। সেই সুযোগে বল খুঁজে নেয় ম্যাক অ্যালিস্টারকে। দারুণ এক হেডে তিনি বল জালে জড়ালে সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আলবিসেলেস্তেরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড। এনদোয়ে ও এম্বোলোর একের পর এক আক্রমণ রুখে দিচ্ছিলেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস ও গোলরক্ষক মার্টিনেজ। তবে ৬৭ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। রদ্রিগেজের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু পাস খেলে কোণাকুনি শটে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে পরাস্ত করে সুইজারল্যান্ডকে ১-১ সমতায় ফেরান এনদোয়ে।
ম্যাচে সমতা ফেরানোর ঠিক ৫ মিনিট পরই বড় ধাক্কা খায় সুইজারল্যান্ড। ৭২ মিনিটে ফরোয়ার্ড এম্বোলো ডাইভ দিয়ে ফাউলের অভিনয় করায় রেফারি ভিএআর দেখে তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখান। ফলে শেষ ১৮ মিনিট ১০ জন নিয়েই লড়তে হয় সুইসদের। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালালেও গোলমুখ খুলতে পারেনি, যার ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরু থেকেই বদলি নামা আলমাদা ও আলভারেজরা সুইস রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন। ম্যাচের ১১২ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যখন বক্সের বেশ দূর থেকে হুলিয়ান আলভারেজের এক চোখধাঁধানো বাঁকানো শট দূরের পোস্টের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সুইসরা যখন সমতায় ফেরার জন্য অল-আউট খেলছিল, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সুইসদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন লাউতারো মার্টিনেজ। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ৩-১ গোলের মহাকাব্যিক জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালের টিকিট কাটে আর্জেন্টিনা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









