ফুটবলে কখনও কখনও একটি বিশ্বকাপ শুধু চ্যাম্পিয়নের নামই বদলায় না, বদলে দেয় শক্তির ভারসাম্যও। ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন ঠিক সেই কাজটাই করল। একদিকে স্পেনকে শিরোপা জেতানো বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল, অন্যদিকে গোলের ভাষাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা নরওয়ের এরলিং হাল্যান্ড—দুজনই এখন শুধু মাঠের নয়, ফুটবল অর্থনীতিরও নতুন মানদণ্ড।
বিশ্বকাপ শেষে হালনাগাদ বাজারমূল্যে ইয়ামাল ও হাল্যান্ডের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো খেলোয়াড়ের বাজারমূল্য ২২০ মিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরোল। কয়েক সপ্তাহের বিশ্বকাপই যেন তাদের মূল্য আরও প্রায় ২২ মিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইয়ামালের গল্পটি কেবল একটি ট্রফি জয়ের নয়। মাত্র কয়েক মাস আগেও তিনি ছিলেন ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি, এখন তিনি বর্তমানের সবচেয়ে দামি ফুটবলার। তার পায়ে স্পেন পেয়েছে বিশ্বকাপ, আর সেই সাফল্য তাকে নিয়ে গেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসনে।
অন্যদিকে হাল্যান্ড যেন প্রমাণ করেছেন, বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও একটি টুর্নামেন্ট নিজের করে নেওয়া যায়। তার গোল, শারীরিক আধিপত্য এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে অবিরাম চাপ নরওয়েকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আর বাজারও তার মূল্য দিতে কুণ্ঠাবোধ করেনি।
প্রিমিয়ার লিগের অর্থশক্তি
দলবদলের বাজারেও সবচেয়ে বড় বার্তা এসেছে ইংল্যান্ড থেকে। চেলসি মরগান রজার্সকে দলে টানতে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এমন অঙ্ক এখন প্রায় একচেটিয়াভাবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর সামর্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এমবাপ্পে এখনও অভিজাতদের কাতারে
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে ১০ গোল করে আবারো নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের বাজারমূল্য এখন প্রায় ২২০ মিলিয়ন ডলার। ইয়ামাল ও হাল্যান্ডের ঠিক পেছনেই তার অবস্থান।
সবচেয়ে বড় উত্থান অলিসের
তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর গল্পটি মাইকেল অলিসের। বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গার বিশ্বকাপে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের নতুন রেকর্ড গড়ে বাজারমূল্য বাড়িয়ে নিয়েছেন প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন ডলারে। কয়েক মাস আগেও যাকে সম্ভাবনাময় প্রতিভা বলা হতো, তিনি এখন বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ বাজারমূল্যের ফুটবলার।
বেলিংহাম ও নতুন প্রজন্ম
শীর্ষ পাঁচে জায়গা ধরে রেখেছেন জুড বেলিংহাম। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা এবং ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠা এই তারকার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও হুলিয়ান আলভারেজের মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অ্যান্ডারসনের বাজারমূল্য এখন প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলার, আর আলভারেজের ১২০ মিলিয়ন ডলার। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অবস্থান ধরে রেখেছেন পেদ্রির ঠিক পেছনে।
কিংবদন্তিরা এখনও আলোয়
সময় অবশ্য সবার জন্যই সমান। তাই বাজারমূল্যে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন। মেসির বর্তমান মূল্য প্রায় ১৬ মিলিয়ন ডলার, রোনালদোর ১১ মিলিয়ন ডলার। সংখ্যার বিচারে তা হয়তো নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তুলনীয় নয়, কিন্তু তাদের নাম এখনও ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান অধ্যায়গুলোর একটি।
ফুটবলে প্রতিটি যুগেরই একটি মুখ থাকে। একসময় সেটি ছিল মেসি-রোনালদোর। এরপর এমবাপ্পে ও হলান্ডের। আর এখন মনে হচ্ছে, নতুন অধ্যায়ের প্রথম পাতায় পাশাপাশি লেখা থাকবে দুটি নাম—লামিনে ইয়ামাল এবং এরলিং হাল্যান্ড।
একজন রোকাফোন্দার বিস্ময়বালক, অন্যজন উত্তর ইউরোপের গোলযন্ত্র। দুজন মিলে শুধু রেকর্ডই ভাঙছেন না, বদলে দিচ্ছেন ফুটবলের অর্থনীতি এবং সুপারস্টারের সংজ্ঞাও।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









