জুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়ানোর স্বপ্নে এখনো হাল ছাড়েনি বার্সেলোনা। তবে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ অনড় অবস্থানে থাকায় কাতালান ক্লাবটি আর বেশি অপেক্ষা করতে রাজি নয়। জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা। এরপরই সক্রিয় হবে ‘প্ল্যান বি’। আর সেই বিকল্প তালিকায় রয়েছেন ইউরোপীয় ফুটবলের কয়েকজন সম্ভাবনাময় তারকারা।
শুক্রবার অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের প্রধান নির্বাহী গিল মারিন কার্যত জুলিয়ান আলভারেজকে বার্সেলোনায় যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেন। যদিও আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার নিজে ক্লাব ছাড়তে আগ্রহী বলে খবর রয়েছে, তবু মারিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমাদের অবস্থান বদলাবে না। ১০০ মিলিয়ন, ১৫০ মিলিয়ন, এমনকি ২০০ মিলিয়ন ইউরো দিলেও জুলিয়ানকে বিক্রি করা হবে না।”
এর কয়েক ঘণ্টা পর নিউইয়র্ক থেকে কাতালুনিয়া রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনা সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা বলেন, “আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি, সেটি এখনো বহাল আছে। তবে একটি সময়ের পর সেই প্রস্তাবের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সেটি হবে জুলাইয়ের শেষ দিকে।”
অর্থাৎ হাতে আছে প্রায় দুই সপ্তাহ। এরপরই নতুন স্ট্রাইকার খুঁজে আনার বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বার্সেলোনার ক্রীড়া বিভাগ।
তবে যেই আসুন না কেন, তাঁর সামনে থাকবে বিশাল এক চ্যালেঞ্জ—রবার্ট লেভানডোভস্কির উত্তরসূরি হওয়া। সেই চাপ সামলাতে প্রয়োজন হবে শুধু দক্ষতাই নয়, মানসিক দৃঢ়তাও।
জোয়াও পেদ্রো
বিকল্প তালিকার অন্যতম শীর্ষ নাম চেলসির ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো। যদিও কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে রাখেননি, তবু বার্সেলোনার ক্রীড়া পরিচালক ডেকো তাঁর বড় ভক্ত। ডেকো জানিয়েছেন, খেলোয়াড়ের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে।
সেন্টার ফরোয়ার্ডের পাশাপাশি সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবেও খেলতে পারেন ২৪ বছর বয়সী পেদ্রো। গত মৌসুমে চেলসির হয়ে ৫০ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল। তবে সবচেয়ে বড় বাধা তাঁর মূল্য। চেলসি তাঁকে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনেছিল এবং এখনই বিক্রির কোনো চাপ নেই। ফলে বার্সেলোনাকে বড় অঙ্কের প্রস্তাব দিতে হতে পারে।
মিকেল ওয়ারিয়ারসাবাল
রিয়াল সোসিয়েদাদের অধিনায়ক মিকেল ওয়ারিয়ারসাবালও শক্তিশালী প্রার্থী। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। বুদ্ধিদীপ্ত লিংক-আপ খেলার কারণে তিনি হানসি ফ্লিকের কৌশলের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে যেতে পারেন। জাতীয় দলের কয়েকজন সতীর্থের সঙ্গেও আবার একই দলে খেলবেন তিনি।
ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় পার করছেন ওয়ারিয়ারসাবাল। লা লিগার পরিবেশও তাঁর নখদর্পণে। প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ইউরোতে তাঁকে পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হলেও বার্সেলোনা সেই দাম কমানোর চেষ্টা করবে। তবে আজীবনের ক্লাব রিয়াল সোসিয়েদাদ ছাড়তে তিনি রাজি হবেন কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন।
জুনিয়র ক্রুপি
কম বয়সী হলেও বিশাল সম্ভাবনাময় নাম জুনিয়র ক্রুপি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইউরোপের বেশ কয়েকটি শীর্ষ ক্লাবের নজরে রয়েছেন বোর্নমাউথের এই ফরাসি স্ট্রাইকার। ডেকোও বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ৩৩ ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন ক্রুপি। তাকে ইউরোপের সবচেয়ে উজ্জ্বল তরুণ প্রতিভাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে তাঁর বাজারমূল্যও বেড়েছে। আর বার্সেলোনা কোনোভাবেই তাঁকে নিয়ে দরকষাকষির যুদ্ধে জড়াতে চায় না।
দুসান ভ্লাহোভিচ
জুভেন্টাসের সার্বিয়ান স্ট্রাইকার দুসান ভ্লাহোভিচও এখনো বার্সেলোনার সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন। আগে তাকে নিয়ে আগ্রহ দেখালেও এখন ক্লাব এমন একজন ফরোয়ার্ড খুঁজছে, যিনি শুধু বক্সের ভেতর গোল করবেন না; আক্রমণ গড়ে তোলা, প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা এবং সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয়েও সমান কার্যকর হবেন।
ভ্লাহোভিচ জুভেন্টাসের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে রাজি নন। ফলে তাকে ঘিরে একাধিক ক্লাবের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে বার্সেলোনা এগোলে তিনি অপেক্ষা করতে রাজি আছেন বলে জানা গেছে। যদিও সম্ভাব্য চুক্তির জন্য তাঁকে নিজের বর্তমান বেতনের দাবি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।
স্বপ্নের নাম হ্যারি কেইন
বার্সেলোনার স্বপ্নের সই অবশ্য হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখ থেকে লেভানডোভস্কিকে আনার মতো আরেকটি বড় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য ক্লাবটির।
৩২ বছর বয়স হলেও গোল করার ধার এখনো অবিশ্বাস্য। গত মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মাত্র ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তবে বায়ার্ন তাঁকে বিক্রি করতে আগ্রহী নয়; বরং চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে চায়।
লেভানডোভস্কির মতো কেইনও এখন নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে নেই। বার্সেলোনার বিশ্বাস, তিনি এলে সঙ্গে সঙ্গেই দলে প্রভাব ফেলতে পারবেন। কিন্তু তার ট্রান্সফার ফি ও বিশাল বেতন—দুটিই কাতালান ক্লাবের আর্থিক সামর্থ্যের বাইরে।
জুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলে এই নামগুলোসহ আরো কয়েকজন সম্ভাব্য ফুটবলারকে নিয়ে বিকল্প পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে বার্সেলোনা। হানসি ফ্লিক এবং ক্লাবের ক্রীড়া বিভাগ কোনোভাবেই নতুন একজন সেন্টার ফরোয়ার্ড ছাড়া দলবদলের মৌসুম শেষ করতে চায় না। আর সেই লক্ষ্য পূরণে ডেকোর জন্য এখন শুরু হয়ে গেছে সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









