বিশ্বকাপের মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফিফার এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, উয়েফা এবং ফুটবল সমর্থকদের সংগঠনও। তাদের দাবি, বিশ্বকাপ কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এটি বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর সম্পদ।
ফিফা সম্প্রতি বিশ্বকাপের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে নিলামে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেন, “ফুটবল বিনিয়োগকারীদের সম্পত্তি নয়। এটি সেই মানুষদের, যারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে মাঠে গিয়ে খেলা দেখে এবং ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখে।”
তিনি আরো বলেন, বিশ্বকাপের শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত ফুটবলের মূল চেতনাকে আঘাত করবে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাও ফিফার পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, “এটি এমন একটি সীমা অতিক্রম করেছে, যা ফুটবলের কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার করা উচিত নয়।”
উয়েফার মতে, “বিশ্বকাপ কোনো পণ্য নয়। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল প্রতিযোগিতা এবং এটি বিক্রির অধিকার কারও নেই। একবার এর একটি অংশ বিক্রি করা মানেই ফুটবলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। ফুটবল সবসময় সমর্থকদের ছিল এবং ভবিষ্যতেও তাদেরই থাকবে।”
সংস্থাটি আরো জানায়, ফুটবলের ভবিষ্যৎ রক্ষায় জাতীয় ফুটবল সংস্থা, লিগ, ক্লাব, খেলোয়াড়, সমর্থক ও সরকার—সবার একসঙ্গে দাঁড়ানো প্রয়োজন। তাদের ভাষায়, “ফুটবলের আত্মা ও পরিচালনাকে ব্যবসার পণ্য বানানো উচিত নয়।”
ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এফএসএ)ও ফিফার পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, “অনেক সমর্থক ভেবেছিলেন, বিশ্বকাপ নিয়ে ফিফা আর হয়তো খারাপ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই তারা আবারও নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।”
এফএসএ আরও বলেছে, ফুটবলের স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক লাভের জন্য নেওয়া এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে লড়াই করবে। একই সঙ্গে তারা উয়েফার অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ফিফা জানিয়েছে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে তারা ফুটবলে বিনিয়োগের অর্থ ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি করতে চায়। এই অর্থ বিশ্বের ২১১টি সদস্য ফুটবল সংস্থার উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে যাবে। তবে ফিফা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা ধরে রাখবে এবং সদস্য সংস্থাগুলো সম্মিলিতভাবে ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব পাবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









