ফুটবলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে আবহাওয়া যেমনই হোক, দুই অর্ধেই বাধ্যতামূলক পানিবিরতি রাখা হবে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবলও কোপা লিবার্তাদোরেস ও কোপা সুদআমেরিকানার সব ম্যাচে একই নিয়ম চালু করেছে। ফলে দীর্ঘদিনের ৪৫ মিনিটের দুই অর্ধের বদলে ম্যাচ কার্যত চারটি ছোট পর্বে ভাগ হয়ে যাচ্ছে।
অতিরিক্ত গরম বা আর্দ্রতা থাকলে রেফারির অনুমতিতে পানিবিরতি দেওয়া হতো। তবে নতুন নিয়মে বিশ্বকাপের প্রতিটি অর্ধের ২২ মিনিটের মাথায় তিন মিনিটের বিরতি থাকবে। কনমেবলের প্রতিযোগিতাগুলোতে প্রতিটি অর্ধে ৯০ সেকেন্ডের বিরতি রাখা হবে।
ফিফা বলছে, এই সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের সুস্থতা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব ম্যাচে একই নিয়ম থাকায় প্রতিযোগিতার পরিবেশও সমান থাকবে।
এই পরিবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্প্রচার। বিরতির সময় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ পাবে। বিশ্বকাপে বিরতির সময় সম্প্রচারকারীরা প্রায় দুই মিনিটের বেশি সময় বিজ্ঞাপন দেখাতে পারবে। এতে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
মাঠের খেলাতেও এই বিরতির প্রভাব পড়ছে। কোচরা এখন এই সময়কে কার্যত টাইমআউট হিসেবে ব্যবহার করছেন। গত ক্লাব বিশ্বকাপে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জাবি আলোনসো পানিবিরতির সময় কৌশল বদলে দলের খেলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন। তাঁর মতে, বিরতির সময় দেওয়া নির্দেশনাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
তবে সবাই এই পরিবর্তনের পক্ষে নন। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম মনে করেন, এমন বিরতি ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে। কোনো দল ভালো খেলতে থাকলে তিন মিনিটের বিরতিতে সেই গতি থেমে যায়।
খেলোয়াড়দের সুরক্ষার পাশাপাশি বাণিজ্যিক দিক থেকেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত বিরতির কারণে সম্প্রচার পরিকল্পনা ও বিজ্ঞাপন বিক্রি আরও সহজ হবে। তাই অনেকের ধারণা, ভবিষ্যতে চার পর্বের এই নতুন কাঠামোই আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্থায়ী রূপ নিতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









