কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় গভীর রাতে সরকারি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে পানি চলাচলের পাইপ (নাসি) বসানোর চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি এক্সকাভেটর এবং ১৫টি নাসি জব্দ করেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎঘোনা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে এক্সকাভেটর দিয়ে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসানোর প্রস্তুতি চলছিল। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বাঁধ কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটর ও ঘটনাস্থলে মজুদ রাখা দুই ফুট ব্যাসের ১৫টি নাসি জব্দ করা হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে একজন গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, হারুন মাতবরপাড়ার জাহাঙ্গীর আলম ও নুর মুহাম্মদ, লালমিয়াপাড়ার মনু এবং শরৎঘোনার জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধে অবৈধভাবে নাসি স্থাপন করে লবণ মাঠ ও চিংড়িঘেরে পানি যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এই সুবিধা দেওয়ার নামে তারা লবণ মাঠ থেকে প্রতি কানি ৩ হাজার এবং চিংড়িঘের থেকে ৪ হাজার টাকা করে প্রতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকা আদায় করে আসছেন।
তারা আরও জানান, বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলসংলগ্ন এই বেড়িবাঁধটি স্থানীয় হাজারো মানুষের বসতি ও অর্থনীতিকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করছে। এভাবে অবৈধভাবে বাঁধ কাটা হলে পুরো এলাকা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তদের দাবি, ওই স্থানে আগে থেকেই একটি নাসি ছিল। সেটি পুনঃস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং অনুমতি সাপেক্ষেই কাজ শুরু হয়েছিল।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কক্সবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে নাসি স্থাপনের কোনো আইনগত সুযোগ নেই। কারিগরি সমীক্ষা বা পাউবোর পূর্বানুমোদন ছাড়া বেড়িবাঁধে এ ধরনের কাটাছেঁড়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আখতার নিলয় বলেন, "বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঢাকা থেকে ফিরে এলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









