প্রস্তুতি ম্যাচ বলেই হয়তো হারটাকে খুব বড় করে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টের মাত্র কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ যেভাবে ৫৪ রানে গুটিয়ে গেল, তাতে দুশ্চিন্তার যথেষ্ট কারণ আছে। ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ও ৩৮ রানে হারের ম্যাচটি তাই বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তাই হয়ে থাকল।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসটা ছিল যেন এক দুঃস্বপ্ন। আগের দিন দুই উইকেট হারিয়ে শেষ করেছিল দল। তৃতীয় সকালে আরও ১৭ ওভারও টিকতে পারেনি। ৫৪ রানে শেষ হয়ে গেল ইনিংস। দলের হয়ে দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পেরেছেন কেবল তানজিদ হাসান—২২ রান।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের মূল নায়ক দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসন। ২২ বছর বয়সী এই তরুণের প্রথম শ্রেণির ম্যাচের অভিজ্ঞতা মাত্র একটি। অথচ বাংলাদেশের বিপক্ষে কী দুর্দান্ত দিনই না কাটালেন! দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫ রানে নিলেন ৮ উইকেট।
প্রথম পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামান থম্পসন। মাঝে অফস্পিনার কোরি রচিচিওলি এসে তার দাপট কিছুটা থামিয়েছিলেন। কিন্তু অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ করে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন থম্পসন। শেষ পর্যন্ত টানা দুই বলে শেষ দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন তিনি।
অথচ প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ২৬৩ রান করেছিল। বল হাতে হাসান মাহমুদও নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। তবু ম্যাচ জেতার মতো লড়াইটা শেষ পর্যন্ত করতে পারেনি বাংলাদেশ।
অন্যদিকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে জশ উইলি ১৩০, ডোরান ৭৬ এবং কার্টিস প্যাটারসন ৫৩ রান করেন। তাদের ৩৫৫ রানের জবাব দিতে গিয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ সারির ব্যাটাররা শুরু থেকেই চাপে ছিলেন।
এখন হাতে মাত্র চার দিন। এরপরই সামনে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউডদের অগ্নিপরীক্ষা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। ডারউইনের এই ৫৪ রানের ধস তাই শুধু একটি প্রস্তুতি ম্যাচের ফল নয়—টেস্টের আগে ব্যাটারদের জন্য বড় এক সতর্কসংকেত।
(ক্রিকইনফো)


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









