ভারতের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজ হেরেছে ঠিকই, কিন্তু ভবিষ্যতের তারকা তারা পেয়ে গিয়েছে। দুই টেস্টে তিনটি শতরান করে এবং শ্রীলঙ্কাকে নিশ্চিত হারের হাত থেকে বাঁচিয়ে গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছেন সোনাল দিনুশা।
১১৩৯ মিনিট, ৭২২ বল, ৪২০ রান এবং তিনটি শতরান। গত দু’সপ্তাহে মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো পরিসংখ্যান তৈরি করেছেন দিনুশা। তবে ক্রিজে যে সময়টা কাটিয়েছেন সেটা নিয়েই চর্চা হচ্ছে বেশি।
দিনুশা যখন খেলতে নেমেছেন তখন শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ঠিক এ রকম, ৯০/৪, ৪৭/৪, ১২২/৪ এবং ২০৯/৪। শেষ ইনিংস দেখে মনে হতেই পারে শ্রীলঙ্কার অবস্থান ছিল। কিন্তু চতুর্থ দিনেই আরও দু’টি উইকেট পড়ে যাওয়ায় পঞ্চম দিন কাটানোর জন্য দিনুশার হাতে ছিলেন শুধু বোলারেরা।
দিনুশা একটি পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিলেন এবং তাতেই সফল হয়েছেন। যতটা বেশি সম্ভব সময় কাটানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। উল্টো দিকে যোগ্য সমর্থনও পেয়েছেন। দিনুশা সময় নিয়েছেন, রান করেছেন এবং ভারতের জেতার স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছেন। ৮৬ ওভার বল করেও ভারত প্রত্যাশিত ফল পায়নি। সুইপ এবং রিভার্স সুইপে ভারতীয় বোলারদের নির্বিষ করে দিয়েছেন তিনি।
শুভমান গিল জানতেন দিনুশার সুইপই করার কথা। তাই পিচের দুই দিকেই ফিল্ডার রেখে দিনুশার কাজ কঠিন করতে চেয়েও তা করতে পারেননি। দিনুশার ফুটওয়ার্ক এবং শট নির্বাচন ভারতীয় বোলারদের বিভ্রান্ত করে দিয়েছে।
সিরিজের ৪০ শতাংশ রান তিনি করেছেন শুধু সুইপ করে। কলম্বোর দু’টি ইনিংস শিক্ষানবিশদের কাছে আদর্শ উদাহরণ হতে পারে। পিচ মন্থর এবং নির্বিষ হয়ে যাওয়ায় দিনুশার কাজ কিছুটা সহজ হয়েছে।
পেসার এবং স্পিনার, দু’ধরনের বোলারদের বিপক্ষেই অসাধারণ খেলেছেন দিনুশা। পাশাপাশি ক্রিজে পড়ে থাকার জেদ ছিল সাংঘাতিক। তাকে ভারতীয় বোলারেরা বিভিন্ন ভাবে বিপদে ফেলার চেষ্টা করেও সফল হননি।
শুভমান বিপক্ষ ব্যাটারের প্রশংসা করে বলেন, “অসাধারণ খেলেছে ও। রক্ষণ দুর্দান্ত ছিল। দারুণ কিছু সুইপ শট খেলেছে। এই ম্যাচে আমার মনে হয় ও অর্ধেক সুযোগও দেয়নি। ভেবেছিলাম পেসারদের দিয়ে ওকে আউট করব। কিন্তু পিচে কিছুই ছিল না। প্রসিদ্ধের মতো পেসার ধারাবাহিক ভাবে ১৩৫-১৪০ কিলোমিটারে বল করেছে। বাউন্সার দিয়েছে। সেটাও অনায়াসে আটকে দিয়েছে দিনুশা।”
শ্রীলঙ্কার কোচ গ্যারি কারস্টেন বলেছেন, “ছয় নম্বরে ব্যাট করা মোটেই সহজ নয়। সব সময়েই চাপের মধ্যে ব্যাট করতে হয়। কিন্তু দিনুশা কঠিন পরিস্থিতিতেই ব্যাট করতে ভালোবাসে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে ওকে প্রথমবার কাছ থেকে ব্যাট করতে দেখেছিলাম। সাত নম্বরে যখন নেমেছিল তখন আমাদের স্কোর ছিল ১১০/৫। সেখান থেকে ধনঞ্জয় ডি সিলভার সঙ্গে ১০০ রানের জুটি গড়েছিল। তখনই বুঝেছিলাম এই ছেলেটা অসাধারণ। টেস্ট ক্রিকেট ভালোবাসে। নিজের শক্তি কাজে লাগিয়ে খেলে।”
সূত্র: আনন্দবাজার


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









