চ্যাম্পিয়নস লিগে জোসে মোরিনহোর গল্পটা যেন বারবার একই জায়গায় এসে থেমে যায়। তিনি দুবার ইউরোপের সেরা হয়েছেন—২০০৪ সালে পোর্তোর হয়ে, ২০১০ সালে ইন্টার মিলানের হয়ে। কিন্তু তৃতীয় শিরোপাটি? সেটিই তার সবচেয়ে বড় অসমাপ্ত অধ্যায়।
আর সেই অধ্যায়ের নতুন পাতা খুলছে রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে। যে ক্লাবের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে তিনি একসময় ইউরোপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই এবার শুরু হচ্ছে নতুন অভিযান। প্রতিপক্ষও ইন্টার—যে দলের হয়ে ২০১০ সালে মোরিনহো তার দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিলেন।
সেই রাতের কথা মনে পড়ে। দিয়েগো মিলিতোর দুই গোলে ইন্টার চ্যাম্পিয়ন। মোরিনহোর চোখে জল। পরদিনই তিনি রিয়াল মাদ্রিদের কোচ। লক্ষ্য ছিল পরিষ্কার—রিয়ালকে আবার ইউরোপের শীর্ষে ফিরিয়ে নেওয়া।
কিন্তু সাফল্য তার দরজায় এসে তিনবার ফিরে গেছে। ২০১০-১১ মৌসুমে বার্সেলোনা, পরের মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ, আর ২০১২-১৩-তে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড—তিনবারই সেমিফাইনালে থেমেছেন তিনি। তিনবার ফাইনালের এত কাছে গিয়েও ফিরতে হয়েছে খালি হাতে।
এবার তাই প্রশ্নটা শুধু রিয়াল কতদূর যাবে, তা নয়। প্রশ্ন হলো, মোরিনহো কি শেষ পর্যন্ত সেই তৃতীয় ইউরোপীয় শিরোপাটি জিততে পারবেন? তিনটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা এখনো কোনো কোচের অর্জন নয়।
তবে শুরুতেই সমস্যা। বেতিসের কাছে ১-০ হারের পর রিয়ালকে সামলাতে হচ্ছে একাধিক অনুপস্থিতি ও চোট। মাঝমাঠে বিকল্পও কম। ফেদেরিকো ভালভের্দেই কার্যত একমাত্র স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ।
মোরিনহোর সামনে তাই পুরোনো স্বপ্ন, নতুন দল এবং নতুন পরীক্ষা। তাকে হয় জুড বেলিংহামকে পেছনে নামাতে হবে, নয়তো তরুণ কাউকে সুযোগ দিতে হবে—অথবা বদলাতে হবে পুরো কৌশল।
চ্যাম্পিয়নস লিগে মোরিনহোর প্রত্যাবর্তন তাই শুধু আরেকটি ম্যাচ নয়। এটি তার অতীতের সঙ্গে বর্তমানের মুখোমুখি হওয়া। এবং হয়তো, অসমাপ্ত একটি গল্প শেষ করার শেষ বড় সুযোগ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









