কর্মঘণ্টা শুরু হয়ে গেছে ১৫ মিনিট আগে, অথচ কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেখা নেই! বরিশাল সদর উপজেলার আমানতগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে ঠিক এমন চিত্রই প্রত্যক্ষ করলেন ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। দায়িত্ব পালনে এমন চরম অবহেলার শাস্তিও মিলেছে হাতেনাতে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই কর্মচারীকে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক অবমুক্ত) করেছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে আমানতগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই আকস্মিক পরিদর্শনে যান বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ওবায়দুল্লাহ।
সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা শিমুল পাইন শান্তা এবং অফিস সহায়ক মো. মজিবুর রহমান।
নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে না থাকার বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পরপরই দ্রুত নেওয়া হয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। একই দিন বিকেলেই বরিশাল জেলা প্রশাসন থেকে বদলির আদেশ জারি করে দুজনকেই তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা শিমুল পাইন শান্তাকে মুলাদী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এবং অফিস সহায়ক মো. মজিবুর রহমানকে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে বদলি করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি দপ্তরে সময়ানুবর্তিতা রক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে বরিশালজুড়ে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের নির্দেশনায় সদর ও উপজেলার ভূমি অফিসগুলোতে যেকোনো সময় এই ঝটিকা অভিযান চালানো হবে।
এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার জানান, সঠিক সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলার শামিল। আমানতগঞ্জের ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে বিকেলেই দুজনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। সরকারি সেবা গ্রহণে যেন সাধারণ মানুষ কোনো দুর্ভোগে না পড়েন, সে জন্য জেলা প্রশাসনের এই আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এই "অন-স্পট'' একশনে জেলার সরকারি অফিসগুলোতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই কঠোর পদক্ষেপ সময়ানুবর্তিতা ফিরিয়ে আনা ও দুর্নীতি-অনিয়ম রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









