ইংল্যান্ডের জার্সিতে বড় কোনো টুর্নামেন্টে ডমিনিক ক্যালভার্ট-লুইনের আলো ছড়ানো যেন ভাগ্যেই লেখা। ২০১৭ সালে এভারটনের হয়ে খেলার সময় তার গোলেই ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতেছিল। প্রায় এক দশক পর আবারও জাতীয় দলের আক্রমণভাগে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে তিনি।
আগামী দুই সপ্তাহ ইংল্যান্ড দলে হ্যারি কেইনের ব্যাকআপ হিসেবে থাকবেন ক্যালভার্ট-লুইন। পাঁচ বছর আগে ইউরো ২০২০-তেও তাকে একই ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। তবে এবার পরিস্থিতিটা কিছুটা ভিন্ন। লিডস ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত শুরু করা এই স্ট্রাইকার নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আবারও ইংল্যান্ডের প্রথম সারির স্ট্রাইকারদের আলোচনায় ফিরেছেন।
বায়ার্ন মিউনিখে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কেইন এখনও ইংল্যান্ডের মূল স্ট্রাইকার। তার বিকল্প হিসেবে জায়গাটা অবশ্য কখনোই স্থায়ী ছিল না। কেইনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তার পেছনে খেলেছেন জেমি ভার্ডি, ক্যালভার্ট-লুইন, ড্যানি ওয়েলবেক, কালাম উইলসন, অলি ওয়াটকিন্স ও ইভান টনি।
ক্যালভার্ট-লুইনের জন্য সবচেয়ে স্মরণীয় সময় ছিল ইউরো ২০২০। টুর্নামেন্টের আগে তিনি ১৬ গোল করেছিলেন—যা এখন পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল মৌসুম। তবে ইংল্যান্ডের হয়ে টুর্নামেন্টে তার সুযোগ ছিল সীমিত।ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৯১ মিনিটে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ৭২ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। বড় কোনো প্রভাব রাখার সুযোগ পাননি।
এরপর চোট ও অনিয়মিত ফর্মের কারণে ইংল্যান্ডের হিসাব থেকে অনেকটাই দূরে চলে যান তিনি। গত মৌসুমে লিডসের হয়ে ১৪ গোল করেও বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাননি। তখন কোচ থমাস টুখেল বেছে নিয়েছিলেন ওয়াটকিন্স ও টনিকে।
এবার অবশ্য ক্যালভার্ট-লুইনের শুরুটা বেশ জোরালো। মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই করেছেন তিন গোল। ইংলিশ স্ট্রাইকারদের মধ্যে তিনিই এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার শটের ৬৪ শতাংশ লক্ষ্যে ছিল এবং গোল করার হার ২৭ শতাংশ—যা এই মুহূর্তে লিগে তিন বা তার বেশি গোল করা খেলোয়াড়দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

লিডসের হয়ে ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি ও লিভারপুলের বিপক্ষেও গোল করেছেন তিনি। ফলে কেইনের ছায়ায় থেকেও নিজের দাবিটা জোরালোভাবেই জানাচ্ছেন ২৮ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।
ইংল্যান্ডের সামনে এখন ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি। ১০ দিনে চার ম্যাচ খেলবে দলটি, যার শুরু ওয়েম্বলিতে স্পেনের বিপক্ষে। সেই দলে কেইনের পর স্বীকৃত একমাত্র ন্যাচারাল নাইন ক্যালভার্ট-লুইন। তবে গোল করাই তার একমাত্র পরীক্ষা নয়। জাতীয় দলে দ্বিতীয় স্ট্রাইকারের ভূমিকাটি মেনে নেওয়ার মানসিকতাও গুরুত্বপূর্ণ। কেইনের পাশে থাকা মানে অধিকাংশ সময় বেঞ্চে অপেক্ষা করা, আর সুযোগ এলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করা।
ক্যালভার্ট-লুইন নিজেও এখন সেই বাস্তবতা বোঝেন। পাঁচ বছর আগে ইউরোতে কেইনের ছায়ায় থাকার অভিজ্ঞতা তার আছে। তখন তিনি বলেছিলেন, ছোটবেলা থেকে দেশের হয়ে বড় টুর্নামেন্টে খেলার স্বপ্ন দেখেছেন, শুধু বেঞ্চে বসে থাকার নয়। সময়ের সঙ্গে সেই ভাবনায় পরিবর্তন এসেছে। পরে তিনি স্বীকার করেছেন, ইউরো ২০২০ তাকে মানসিকভাবে শক্ত করেছে। এখন তিনি জানেন, জাতীয় দলে তার লড়াইটা কীসের জন্য এবং সেই ভূমিকাটি মেনে নিতে প্রস্তুত।
এটাই হয়তো এবারের ক্যালভার্ট-লুইনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। পাঁচ বছর আগে তিনি ছিলেন সুযোগের অপেক্ষায় থাকা তরুণ স্ট্রাইকার। এখন তিনি জানেন, কেইনকে সরানো নয়—কেইনের পাশে থেকে সুযোগের অপেক্ষা করাই তাঁর কাজ। আর সেই সুযোগ এলে গোল করাই হবে তার সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর।
লিডসে তার বর্তমান ফর্ম তাই শুধু তিনটি গোলের গল্প নয়। এটি পাঁচ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া একটি জায়গা আবার ফিরে পাওয়ার গল্পও।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









