আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ন্যাটোর এক বা একাধিক সদস্যদেশে রাশিয়া ‘সীমিত’ হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছে ডেনমার্কের গোয়েন্দা সংস্থা পিইটি। তাদের মূল্যায়নে, হামলার লক্ষ্য হতে পারে ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এর মাধ্যমে ইউক্রেন থেকে ইউরোপের মনোযোগ সরানো এবং ন্যাটোর মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করতে পারে মস্কো।
বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত মূল্যায়নে পিইটি বলেছে, হামলার ঝুঁকি এখনো ‘কম’, তবে তা বাড়ছে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ন্যাটো সদস্য লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া, পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থাটির মতে, হামলা বড় ধরনের স্থল অভিযান না হয়ে দূরপাল্লার প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে সহায়তা করা ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ও শিল্প অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিচ্ছিন্ন হামলা হতে পারে। এমন হামলার পর রাশিয়া দাবি করতে পারে, ইউক্রেনের কোনো পদক্ষেপের কারণে অস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ন্যাটোর ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে।

ইউরোপে রুশ হুমকি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হুমকি’ বৃদ্ধির কথা বলেছেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তাঁর দেশ বা কোনো মিত্রের বিরুদ্ধে হামলার আশঙ্কা জানিয়েছেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরে টাস্কের সতর্কতাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক নাশকতা, ড্রোন হামলা ও ন্যাটোর আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের ঘটনায় ইউরোপে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর আলোচনা জোরদার হয়েছে। ডেনিশ গোয়েন্দারা জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে গত ৫ আগস্ট ইউক্রেনগামী একটি কার্গো বিমানে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার ব্যর্থ চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেছে। জার্মানি এ ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করেছে।
তবে সব ইউরোপীয় নেতা একই মাত্রায় হুমকি দেখছেন না। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন রুশ হুমকি বাড়ার কথা বললেও সুইডেনের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব মস্কোর হুমকি ও নাশকতা নিয়ে ‘অতিরঞ্জিত’ প্রতিক্রিয়া না দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
পিইটি আরও বলেছে, রাশিয়া সীমান্তবর্তী কোনো ন্যাটো দেশে সীমিতসংখ্যক অজ্ঞাত সামরিক সদস্য মোতায়েন করতে পারে। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের সময় মস্কোর কৌশলের সঙ্গে এর মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
তবে বড় আকারের ন্যাটো আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে রাশিয়ার অন্তত ছয় মাস লাগতে পারে বলে মনে করছে ডেনিশ গোয়েন্দারা। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্প দ্রুত উৎপাদন চালালেও নতুন করে বিপুলসংখ্যক পদাতিক সেনা সংগ্রহ করা দেশটির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
ডেনিশ গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ন্যাটোর ঐক্য নিয়ে রাশিয়ার হিসাব-নিকাশই বড় উদ্বেগের বিষয়। মস্কো যদি মনে করে সীমিত হামলার জবাবে জোট ঐক্যবদ্ধ হবে না, তাহলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে কোন ধরনের হামলা ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা আর্টিকেল ৫ সক্রিয় করবে, সে বিষয়েও রাশিয়া নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে ডেনিশ গোয়েন্দা সংস্থাটি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









