আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন তানজিদ হাসান। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ইনিংস পেয়েছে দারুণ শুরু। শাদমান ইসলামের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ২৩ ওভারে ১২৪ রান তুলে ফেলেন তানজিদ। তবে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও মধ্যাহ্নভোজের প্রায় ১৫ মিনিট আগে থামতে হয় তাকে। ৭১ বলে ৮৩ রানের ইনিংসটি সাজানো আটটি চার ও চারটি ছক্কায়।
প্রথম সেশনের খেলা শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৩৪ রান। শাদমান ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন। দিনের প্রথম সেশনে ব্যাটিংয়ের পুরো আলোটা কেড়ে নিয়েছিলেন তানজিদ। আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে তিনি যেভাবে রান তুলছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল, টেস্ট ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পেতে চলেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
বাংলাদেশের হয়ে টেস্টের প্রথম সেশনে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটিও প্রায় নিজের করে নিচ্ছিলেন তানজিদ। ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিল্টন টেস্টে প্রথম সেশনে ৮৬ রান করেছিলেন তামিম ইকবাল। সেই রেকর্ড থেকে মাত্র তিন রান দূরে থাকতে থামতে হয় তানজিদকে।
ইসমত আলমের বলে তানজিদের ব্যাটের কানায় লাগা বলটি গ্লাভসে জমা নেন উইকেটকিপার ইকরাম আলিখিল। নতুন সহ-অধিনায়ক ইকরামের স্টাম্পের কাছে দাঁড়িয়ে বল ধরার সিদ্ধান্তটি কাজে লেগেছে। এর আগে পর্যন্ত তানজিদকে থামানোর কোনো উপায়ই যেন খুঁজে পাচ্ছিল না আফগানিস্তান।
শাদমানের জীবন, বাংলাদেশের গতি
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তানজিদ। পঞ্চম ওভারে ইয়ামিন আহমদজাইকে পরপর দুটি চার মেরে নিজের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে দেন তিনি। একবার পয়েন্ট অঞ্চলে দেরিতে খেলে চার, পরেরবার ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে এসে একই অঞ্চলের ওপর দিয়ে বল সীমানার বাইরে পাঠান।
সপ্তম ওভারে বাংলাদেশের প্রথম উইকেটটি তুলে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু শর্ট কভারে শাদমানের সহজ ক্যাচ ফেলেন অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদি। ৫ রানে থাকা শাদমানের ক্যাচটি ধরতে গিয়ে বলের কাছে অপেক্ষা না করে ডাইভ দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। সেই ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে আফগানিস্তানকে।
জীবন পেয়ে শাদমানও ব্যাট চালাতে শুরু করেন। আহমদজাইয়ের পরের ওভারে কভার ড্রাইভে দারুণ একটি চার মারেন তিনি। অন্য প্রান্তে মোহাম্মদ সেলিমকে আক্রমণ করে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ ৫০-এ নিয়ে যান তানজিদ। দশম ওভারেই পঞ্চাশের ঘরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
আহমদজাইকে কভারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে প্রথম ছক্কাটি মারেন তানজিদ। পরের বলেই কভার ড্রাইভে চার। এক ওভার থেকে তুলে নেন ১২ রান। আফগান বোলারদের ওপর চাপ তখন ক্রমেই বাড়ছে।
তানজিদের ব্যাটে চার-ছক্কার উৎসব
তানজিদকে থামাতে নতুন অধিনায়ক রহমত শাহ বল তুলে দেন অনিয়মিত বোলার শহিদির হাতে। সিদ্ধান্তটি যে খুব একটা কাজে আসেনি, তা দ্রুতই বোঝা যায়। শহিদিকে মিড-অনের ওপর দিয়ে তুলে মেরে তানজিদ পৌঁছে যান পঞ্চাশে। ৪১ বলে আসে তার অর্ধশতক।
এরপরও থামেনি আক্রমণ। শহিদির পরের ওভারেই একটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তানজিদ। শাদমানও যোগ দেন সেই উৎসবে। ইসমত আলমের ওভারে পরপর দুটি চার মেরে রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন তিনি। বাংলাদেশের রান তোলার হার তখন ওভারপ্রতি প্রায় ছয়।
বাঁহাতি স্পিনার জিয়া-উর-রহমানকেও ছাড় দেননি তানজিদ। পরপর দুই ওভারে দুটি ছক্কা মেরে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। তার ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাস, শট নির্বাচনে ছিল আগ্রাসন। কখনো কভারের ওপর দিয়ে, কখনো মিড-অনের ওপর দিয়ে বল সীমানা ছাড়া করেছেন তিনি।
কিন্তু বড় ইনিংসের পথে ছুটতে থাকা তানজিদকে শেষ পর্যন্ত থামিয়ে দেন ইসমত আলম ও ইকরাম আলিখিল। মধ্যাহ্নভোজের আগেই শেষ হয় তার ঝোড়ো ইনিংস। সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও বাংলাদেশের জন্য প্রথম সেশনের প্রাপ্তি কম নয়।
এক উইকেটে ১৩৪ রান—আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের শুরুতে এমন অবস্থান নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক। শাদমান ক্রিজে ছিলেন, নতুন ব্যাটার মুমিনুল হকও শেষ ওভারে আপার-কাটে চার মেরে রানের খাতা খুলেছেন। তানজিদের বিদায়ে প্রথম সেশনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায়ের শেষ হয়েছে ঠিকই, তবে বাংলাদেশের শক্ত ভিত গড়ে দেওয়ার কাজটি তিনি করে গেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









