অজিত আগারকার সময়কাল শেষ হওয়ার পরও নিউজিল্যান্ড সফরের ভারতীয় দলে জায়গা হয়নি মুহাম্মদ শামির।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পাওয়ার পুরস্কার ভুবনেশ্বর কুমার পেলেও শামি ব্রাত্যই রইলেন। তবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার আশা ছাড়তে নারাজ তিনি। রঞ্জি ট্রফিতে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে বাংলা জয়ের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ খুলেছেন শামি।
শোনা যাচ্ছে, জাতীয় নির্বাচকেরা এবং ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর মনে করছেন শামির ফিটনেসের সমস্যা রয়েছে। লম্বা স্পেলে তার পক্ষে বল করা সম্ভব হবে না। সে কারণেই নাকি ভারতীয় দলের জন্য শামিকে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
ক্রিকেটপ্রেমীদের আশঙ্কা নিজেই উড়িয়ে দিয়েছেন শামি। জানিয়েছেন দেশের হয়ে খেলার আশা ছাড়ছেন না। শামি বলেছেন, ‘‘আমি কেন আশা ছাড়ব? সব সময় আশাবাদী থাকা উচিত। যে কোনও পেশাতেই আশা ধরে রাখতে হয়। সব সময় একটা লক্ষ্য থাকা উচিত। আমারও আবার দেশের হয়ে খেলার লক্ষ্য রয়েছে। অস্বীকার কেন করব!’’
নিজের ফিটনেস নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি লম্বা স্পেলে বল করতে পারব কিনা, এটা অন্য কেউ কী করে বুঝতে পারছে? একজন বোলার কতক্ষণ বল করবে, এটা নির্ভর করে দলের চাহিদা এবং ম্যাচের পরিস্থিতির উপর। এমন তো নয় আমি ওভারের পর ওভার বল করেই যাব।’’
সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে বাংলার প্রথম একাদশে না থাকায় সাংবাদিকদের শামি বলেছেন, ‘‘পিচের চরিত্রও গুরুত্বপূর্ণ হয়। যেমন ধরুন বাংলা-সার্ভিসেস ম্যাচের উইকেট। একজন ফাস্ট বোলারকে দিয়ে এই ধরনের পিচে কি টানা পাঁচ বা ১০ ওভার বল করানো যায়? যদিও কোনও ব্যাটারের জোরে বল খেলার ক্ষেত্রে অস্বস্তি থাকে, তা হলে বল করানো হবে। যদি মনে হয়, পিচে স্পিনারেরা সুবিধা পাবে, উইকেট পাবে, তা হলে স্পিনারেরা বল করবে। এগুলো পুরোপুরি খেলার পরিস্থিতি এবং পিচের চরিত্রের উপর নির্ভর করে। অধিনায়ক সিদ্ধান্ত নেয়।’’
তিনি সম্পূর্ণ ফিট কিনা জানতে চাওয়া হলে ৩৮ বছর বয়সী শামি বলেছেন, ‘‘একদম। টানা ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টাও বল করতে পারি। আমার কোনও সমস্যা নেই। এখনও নিজের সেরা ফর্মে রয়েছি। ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলার কোনও মানে হয় না। আমি যেমনই হই না কেন, আমি আমার সেরা সময়ের মধ্যেই রয়েছি।’’
সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে না খেলার কারণ হতাশা নয়, পিচের চরিত্র বলে জানিয়েছেন শামি। তিনি বলেছেন, ‘‘পিচের অবস্থা তো আপনারা দেখছেন। দু’চার ওভারের জন্য খেলার কোনও মানে হয় না। বরং তরুণ ক্রিকেটারেরা সুযোগ পেল। ওদের জন্য ভালোই হল। ওরা যত বেশি খেলবে, তত অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। দলের যখন প্রয়োজন হবে, তখনই মাঠে নামব। আমার মনে হয় না, এখানে সত্যিই আমার খেলার দরকার ছিল। দল ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। আমি তো ব্যাটার হিসেবে খেলতাম না।’’
তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে প্রায় ৯০ মিনিট বোলিং অনুশীলন করেন শামি। প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছেন না। সতীর্থদের নানা পরামর্শ দিয়েছেন। মাঠের বাইরে থাকলেও সব সময় সক্রিয় ছিলেন।
এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘হতাশার কোনও ব্যাপার নেই। গত মৌসুমেও আমি সব ম্যাচ খেলেছি। আমার লক্ষ্য আগামী প্রতিযোগিতাগুলোতেও যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলা। কার কখন প্রয়োজন হবে, তা কেউ জানে না।’’
তিনি আরও বলেছেন, ‘‘তা ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা আইপিএলের প্রস্তুতির জন্যও ভাল। যত বেশি খেলব, তত ভাল ছন্দে থাকব। দলের সঙ্গে থাকলে সব কিছুই ভাল থাকে। আমি সেই চেষ্টাই করি।’’
নিজেকে ভারতের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার হিসেবে বিবেচনা করেন কিনা জানতে চাইলে শামি বলেছেন, ‘‘নিজের প্রশংসা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রশ্নটা সাংবাদিকদেরই করা উচিত। তবে যে ম্যাচই খেলি, যে দলের হয়েই খেলি, নিজের সেরাটা সব সময় দেওয়ার চেষ্টা করি।’’
ভুবনেশ্বর জাতীয় দলে ফেরার পর নির্বাচকেরা তাকে কোনও বার্তা দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শামি বলেছেন, ‘‘আমি এখন দলে নেই। আমার সঙ্গে কোনও চুক্তিও নেই। কেন আমার সঙ্গে কথা বলতে যাবেন তারা! তা ছাড়া, আমি এত কিছু ভাবি না। জীবনে কখন কী হবে কেউ জানে না। কে রান পাবে, কে উইকেট পাবে— আগে থেকে বলা যায় না। এত ভেবে তাই লাভ নেই। শুধু ম্যাচ খেলতে হবে আর যতটা সম্ভব নিজের উন্নতি করতে হবে।’’
বাংলা দল নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘‘এই দলই তো আমায় পরিচিতি দিয়েছে। আপনারা কি আমায় কোনও ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছেন? তবে শুনুন, আজ আমার সব কিছুই এই দলের জন্য। যখন ক্রিকেট জীবন শেষ করব, সেই সময়ও এই দলের সঙ্গেই থাকতে চাই। কোন মঞ্চে বা স্তরে খেলছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রত্যেকের আনুগত্য থাকা উচিত। কঠোর পরিশ্রম করা উচিত। আমি সেটাই করি। কারণ শুধু এটুকুই আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। বাকি কিছুই আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। শুধু খেলে যেতে হবে। যখন যেমন সুযোগ পাব, খেলে যাব।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









