ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারে পুরস্কারের অভাব নেই। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর, চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি, জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য কীর্তি—সব মিলিয়ে তার অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি বিশেষ স্বীকৃতি। ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সাময়িকীর নতুন পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ জিতেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
এই স্বীকৃতি এসেছে তার ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য। সেবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়েছিলেন রোনালদো। দলকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানোর পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগেও রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ব্যক্তিগত সাফল্যের মুকুটে যোগ হয়েছিল গোল্ডেন বুটও—সেই মৌসুমে ৩১টি গোল করেছিলেন তিনি।
২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরের ভোটে রোনালদো পেছনে ফেলেছিলেন লিওনেল মেসি, ফার্নান্দো তোরেস ও জাভি এর্নান্দেসকে। সেটি ছিল তার প্রথম ব্যালন ডি’অর। এরপর আরও চারবার এই পুরস্কার জিতেছেন তিনি—২০১৩, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে। কিন্তু এবার স্বীকৃতিটি আলাদা। এটি কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পুরস্কার নয়; বরং ব্যালন ডি’অরজয়ীদের মধ্যে কোন জয়টি ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয়, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা।

ভোটের নিয়মে বদল, সিদ্ধান্তে সমর্থকেরা
নতুন ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ পুরস্কারের জন্য ভোটের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এনেছে ‘ফ্রান্স ফুটবল’। প্রচলিত নিয়মে সাংবাদিকদের ভোটের পরিবর্তে এবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ফুটবলপ্রেমীদের। তবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য একটি শর্ত ছিল—খেলোয়াড়কে অন্তত দুবার ব্যালন ডি’অর জিততে হবে।
এই শর্তের কারণে প্রার্থী তালিকায় জায়গা পেয়েছিলেন মাত্র দশজন। তাদের মধ্যে ছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, মার্কো ভ্যান বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ, কেভিন কিগান, আলফ্রেদো দি স্তেফানো, রোনালদো নাজারিও এবং কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে।
ভোটের বিষয়টি ছিল আরও নির্দিষ্ট। সমর্থকেরা শুধু খেলোয়াড় নির্বাচন করেননি; বেছে নিয়েছেন তাদের ব্যালন ডি’অরজয়ী নির্দিষ্ট মৌসুমটিও। শেষ পর্যন্ত রোনালদোর ২০০৮ সালের জয়ই অন্যদের পেছনে ফেলে সবার ওপরে উঠে আসে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, মেসির ২০১২ ও ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী সংস্করণও ছিল আলোচনায়। গত এক দশকের ফুটবলকে যাঁদের দ্বৈরথ নতুন মাত্রা দিয়েছিল, সেই রোনালদো ও মেসিই ভোটের তালিকার প্রথম বারোটি স্থানের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করেছেন।
পুরস্কারের বাইরেও একটি গল্প
রোনালদোর কাছে এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে বিশেষ। তার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে সাফল্যের সংজ্ঞা বদলেছে—কখনো গতি, কখনো গোল, কখনো শিরোপা, কখনো ব্যক্তিগত রেকর্ড। কিন্তু ২০০৮ সালের সেই মৌসুম তার ফুটবলজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়, ৩১ গোল এবং প্রথম ব্যালন ডি’অর—সবকিছু মিলিয়ে সেটিই তাকে বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দল নিয়েও তাকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে বিরোধের পর সর্বশেষ জাতীয় দলের অনুশীলন শিবিরে তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ পুরস্কার তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের জন্য নতুন এক স্বীকৃতি হয়ে এল।
ফুটবলে রোনালদো ও মেসির তুলনা হয়তো কখনোই শেষ হবে না। তাদের অর্জন, খেলার ধরন, প্রভাব এবং ভক্তদের আবেগ—সবকিছুই এই বিতর্ককে বাঁচিয়ে রাখবে। কিন্তু ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর নতুন পুরস্কারে এবার সমর্থকদের ভোটে এগিয়ে থাকল রোনালদোর ২০০৮। ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী হিসেবে তার নামের পাশে যুক্ত হলো আরেকটি বিশেষ সম্মান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









