মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে ক্যারিবীয় স্পিনারদের সামনে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। একপর্যায়ে একশ রানের লিড পাওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতে জাকের আলি ও নাঈম হাসানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছে বাংলাদেশ। দিন শেষে আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৬ উইকেট হারিয়ে ৭৯ রান সংগ্রহ করেছে টাইগাররা। প্রথম ইনিংসের হিসাব মিলিয়ে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। দলীয় ১ রানেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। শামার জোসেফের লেগ স্টাম্পের ফুল লেন্থের বল ফ্লিক করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। আগের ইনিংসে ৭ রান করা তানজিদ এবার কোনো রানই করতে পারেননি।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাদমান ইসলাম মিলে দলের লিড ৫০ রানের ঘরে নিয়ে যান। কিন্তু ইনিংসের ১১তম ওভারে আবারও বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মাত্র তিন বলের ব্যবধানে বিদায় নেন সাদমান ও তাওহীদ হৃদয়। চেজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৩০ বলে ১৩ রান করেন আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা সাদমান। অন্যদিকে, আগের ইনিংসে ৪২ রান করা হৃদয় এবার কোনো রান না করেই ফেরেন। জোসেফকে আক্রমণ করতে গিয়ে মিড-অনে ক্যাচ দেন তিনি।
শান্ত আউট হওয়ার পর ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পাওয়া মুমিনুল হকের কানকাশন বদলি হিসেবে মাঠে নামেন জাকের আলি অনিক। এরপর বাংলাদেশের স্কোরে আরও এক রান যোগ হতেই বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের আগেই নেওয়া হয় চা বিরতি। তখন মাত্র ৩৪ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
এর আগে দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সফরকারীদের হয়ে ১৮৪ বল মোকাবিলা করে ৬ চার ও এক ছক্কায় ৫৬ রান করেন তেজনারায়ণ চন্দরপল। শরিফুল ইসলামের বলে স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে থামে তার ইনিংস। বিদায়ের আগে জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে ৬৫ রানের জুটি গড়েন তিনি।
গ্রিভসের ইনিংসও থামে ৪৬ রানে। ১০৩ বলে ২ চারে এই রান করেন তিনি। মুমিনুল হক তার সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ায় একবার জীবন পেয়েছিলেন গ্রিভস। শেষ পর্যন্ত নাঈম হাসানের অফস্পিনে এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটার।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বাংলাদেশের দুই অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান বাকি চারটি উইকেট ভাগাভাগি করে নেন। অভিষিক্ত অলরাউন্ডার জশুয়া বিশপ শুরুতেই তিনটি চার মেরে আক্রমণাত্মক হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। মিরাজের বলে স্টাম্পিং হন তিনি। এরপর শামার জোসেফকে ৪ রানে লিটনের ক্যাচ বানান নাঈম। জোমেল ওয়ারিকানকে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ এবং জেইডেন সিলসকে মিরাজের ক্যাচে পরিণত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন এই অফস্পিনার।
বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন নাঈম হাসান। দ্রুততম সময়ে ৫০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা এই স্পিনার শিকার করেছেন ৪ উইকেট। মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম পেয়েছেন দুটি করে উইকেট। এ ছাড়া হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
দিনের শেষভাগে জাকের ও নাঈমের ব্যাটে লিড আরও বাড়ানোর প্রত্যাশায় বাংলাদেশ। এখন দেখার বিষয়, চতুর্থ দিনে এই জুটি দলকে কতদূর এগিয়ে নিতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









