প্রথমবারের মতো আয়োজিত সাফ উইমেন’স ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভারতের মুখোমুখি হবে সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দল।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মালদ্বীপ-ভারত ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টের পর্দা উঠবে। সাত দলের এই আসরে অংশ নিতে ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। প্রস্তুতির সময় স্বল্প হলেও ভালো ফল নিয়ে দেশে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী অধিনায়ক সাবিনা খাতুন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) টুর্নামেন্ট উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন এবং কোচ সাঈদ খোদারাহমির কণ্ঠে শোনা যায় আত্মবিশ্বাসের সুর।
সাবিনার জন্য এই আসর বিশেষ চ্যালেঞ্জের। জাতীয় দলের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ফুটসালে খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে কেবল তারই। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দেশের হয়ে ফুটবল খেলেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন দলকে এবং জিতিয়েছেন দুটি উইমেন’স সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। এবার সেই নেতৃত্বের ভার ফুটসালেও তার কাঁধে।
সংবাদ সম্মেলনে সাবিনা বলেন,“আপনারা জানেন, আমি ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে খেলেছি এবং ফুটসালটা আমাদের জন্য একেবারেই নতুন। তবে আমাদের বিশ্বাস আছে এই টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করার। দেশের জন্য খেলাটা সবসময়ই গর্বের বিষয়। ইনশাআল্লাহ, সেটাই আমাদের দৃঢ় লক্ষ্য।”
প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন,“প্রস্তুতি আলহামদুলিল্লাহ ভালো ছিল। কোচ আগেই বলেছেন, আমাদের সময় খুব কম ছিল এবং দলের বেশিরভাগ সদস্যই নতুন। তাই এটি আমাদের জন্য একটি শুরু। আলহামদুলিল্লাহ, প্রস্তুতি ভালো হয়েছে।”
কোচ সাঈদ খোদারাহমিরও মনে করেন, এই আসরে সব দলই প্রায় সমান শক্তির। ফুটসাল বাংলাদেশের জন্য একেবারেই নতুন হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
কোচ বলেন,“এই আয়োজনের জন্য এএফসি, এএফএফ ও সাফকে ধন্যবাদ। দক্ষিণ এশিয়ায় নারীদের জন্য এটিই প্রথম সাফ ফুটসাল আয়োজন। আমার মনে হয় সব দলই একই মানের, কারণ এটি সবার জন্যই নতুন। খেলোয়াড় বাছাইয়ের জন্য আমরা মাত্র এক মাস সময় পেয়েছি, আর আমাদের সব খেলোয়াড়ই মূলত ফুটবলার কারণ বাংলাদেশে কোনো ফুটসাল কাঠামো নেই।”
দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“আমি বাংলাদেশের জন্য পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা চাই। মিয়ানমারে কাজ করার সময় দেখেছি কীভাবে সঠিক পরিকল্পনায় র্যাঙ্কিং উন্নত করা সম্ভব। শুরুর জন্য ভালো ভিত্তি দরকার। আমি আশা করি ভবিষ্যতে সাফ কোয়ালিফিকেশন পেরিয়ে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ বিশ্বকাপে যাবে। সম্ভাবনা অবশ্যই আছে।”
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মেয়েদের এই পথচলা ফুটসালের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









